খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪, ০৫:০১ এএম

শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অবৈধ সরকার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করছে। বিএনপি তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

২৪ জুন দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাকে (খালেদা জিয়া) বাইরে পাঠানোর জন্য সব ব্যবস্থা হয়েছিল। তার পরিবার প্রায়ই আবেদন করে। ফাইনালি যখন এটা (আবেদন) প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেল তিনি রিজেক্ট করেছেন। শুধু এটা নয়, আমরা বিভিন্ন মিশনের কাছে চিঠি দিয়েছিলাম। তারা চেষ্টা করেছেন। তারা (বিদেশি মিশনগুলো) বলেছেন, দুঃখিত ভাই, উনি (প্রধানমন্ত্রী) শুনলেন না। সি ইজ ভেরি ভিনডেক্টিভ (তিনি খুব প্রতিশোধমূলক)। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্দেশ্যের কারণ হচ্ছে, রাজনীতি থেকে তাকে (খালেদা জিয়া) দূরে সরিয়ে রাখা।’

তিনি বলেন, ‘সকাল (গতকাল) পর্যন্ত আমি যতটুকু জানি, তিনি (খালেদা জিয়া) সিসিইউতে ব্যক্তিগতভাবে অ্যাডজাস্ট করতে না পারায় কেবিনে (সিসিইউর ফ্যাসিলিটিজসহ) নেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন ছাড়া তার কোনো পথ নেই। এটা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত যেটুকু করেছি, সেটুকু তার পরিবার এবং দলের চেষ্টাতেই হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসক এনে যতটুকু করা হয়েছে, সে কারণে বেগম জিয়া এখনো টিকে আছেন। সরকারের এখানে কোনো কৃতিত্ব নাই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারত সফরে দেশটির সঙ্গে ২টি চুক্তি, ৫টি নতুন সমঝোতা, ৩টি চুক্তি নবায়নসহ ১০টি চুক্তি সমঝোতা স্বাক্ষর করেছেন। এ নিয়ে স্থায়ী কমিটির সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চুক্তিগুলোয় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। দেশের স্বার্থবিরোধী হওয়ায় বিএনপি এই চুক্তিগুলো প্রত্যাখ্যান করছে। এ বিষয়ে ২৮ তারিখে বিএনপির পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হবে। প্রয়োজন হলে কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন ভারতের বিরুদ্ধে নয়, সরকারের বিরুদ্ধে। ভারতের কাছ থেকে দাবিগুলো আদায়ে সরকার ব্যর্থ। অভিন্ন নদীগুলোর পানির হিস্যা না পেয়ে চুক্তি করতে চাইছেন। তিস্তা প্রকল্পে অনেক টাকা, তাই সেখানে সরকার কাজ করতে চায়। মমতা ব্যানার্জি বলে দিয়েছেন, পশ্চিম বাংলাকে বাদ দিয়ে এটা করা যাবে না, তারা দেবে না। এ জন্য অবশ্যই চাপ প্রয়োগ করা দরকার। ফারাক্কা তো এক দিনে হয়নি। ফারাক্কার ইস্যুটি দেশে-বিদেশে-জাতিসংঘে তোলা হয়েছিল। অথচ সরকার এসব বিষয়ে (অভিন্ন নদী-তিস্তার পানির হিস্যা) জাতিসংঘে উত্থাপন করে নাই। এই সরকার বাংলাদেশবিরোধী সরকার।’

তিনি বলেন, ‘চিকেন নেকটাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে করিডর তৈরি করাতে বাংলাদেশের লাভ কী? সম্পূর্ণ লাভ তার (ভারতের)। এটা ভারত বিরোধিতা নয়। কানেকটিভি আমার স্বার্থে হতে হবে। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাদ দিয়ে কোনো চুক্তি হবে না। সরকার অভিন্ন নদীর পানির ব্যাপারে কোনো কিছুই করছে না। সীমান্তে মানুষ হত্যা করছে, কিছুই বলছে না। উজাড় করে দিয়ে তো রেজাল্ট পেয়েছে। আবার রেজাল্ট পাবে। সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে ভারতের ওপর নির্ভরশীল করে ফেলেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি ১৫-১৬ বছরে যে আন্দোলন করেছে, সেটাকে খাটো করে দেখার কোনো কারণ নেই। এই আন্দোলনে ২২-২৩ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ২৭ হাজার লোককে দুদিনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভয়াবহ সরকারের নিবর্তনমূলক, নির্যাতনমূলক দমননীতির কারণেই হয়তোবা সাফল্য আসেনি এখন পর্যন্ত। কিন্তু কোনো দিনই ন্যায়ের পথে আন্দোলন ব্যর্থ হয় না, আমাদের এটাতেও অবশ্যই সাফল্য আসবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত