কনডেম সেলের ছাদ ফুটো করে পালিয়েছিলেন যারা

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪, ০১:২১ পিএম

বগুড়া জেলা কারাগার থেকে পালানো চার ফাঁসির আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার পর জেলা কারাগারের কনডেম সেলের ছাদ ফুটো করে ফাঁসির আসামীরা পালিয়ে যায়। পরে ভোর ৪টা ১০ মিনিটে বগুড়া শহরের চেলোপাড়া চাষীবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জেল থেকে পালানো ওই চার কয়েদি হলেন— কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গা এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে মো: নজরুল ইসলাম মন্জুর (৬০), বগুড়া জেলার সদর উপজেলার কুটুরবাড়ি পশ্চিমপাড়ার মোঃ ইসমাইল শেখের ছেলে মো: ফরিদ শেখ ( ২৮), নরসিংদী জেলার মাধবদী উপজেলার ফজরকান্দি এলাকার মৃত ইসরাফিল খাঁর ছেলে আমির হামজা ওরফে আমির হোসেন (৩৮), বগুড়া জেলার কাহালু থানার মো: আব্দুল মান্নানের ছেলে মো: জাকারিয়া (৩১)। তারা সকলেই ফাঁসির আসামি।

সকালে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক চারটায় জানতে পারেন জেলা কারাগারের কনডেম সেল থেকে ৪ জন ফাঁসির আসামি পালিয়েছে। তাৎক্ষণিক ভাবে ডিউটিরত সকল পুলিশ সদস্যকে তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাত আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটে সদর ফাঁড়ির এসআই খোরশেদ আলম শহরের চেলোপাড়া চাষী বাজার থেকে তাদের আটক করেন। আটকের পর তারা জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত কয়েদি এবং তারা জেলা কারাগার থেকে পালানের বিষয়টি স্বীকার করে।

তিনি আরও জানান, জেল পালানো ওই আসামীদের বিরুদ্ধে আরও মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন কোন কথা বলতে রাজি না হলেও এ ঘটনায় বগুড়ায় আসা ডিআইজি (প্রিজন) কামাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি হয়েছে। তবে কত সদস্যের কমিটি হয়েছে তা তিনি জানেন না। বিষয়টি দেখতে অতিরিক্ত আইজি (প্রিজন) বগুড়া আসছেন বলেও জানান তিনি। 

বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনা রাতে জানার পর পুলিশকে অবহিত করি। এ ঘটনায় ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, জেলার এডিএম, পুলিশের একজন কর্মকর্তা, র‍্যাবের একজন, গণপূর্ত বিভাগের একজন, ফায়ার সার্ভিসের একজন এবং জেলা কারাগারের একজন থাকবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত