রাজশাহীর বাঘায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত এক আওয়ামী লীগ নেতা মারা গেছেন। নিহতের নাম আশরাফুল ইসলাম বাবুল। তিনি বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত শনিবার স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে তিনি গুরুতর আহত হন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে তিনি মারা যান।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান। তার মাথায় আঘাত লেগেছিল। সেখান থেকে ইনফেকসান হয়ে তার মৃত্যু হয়।
রাজশাহী জেরা পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বাঘা উপজেলায় দুপক্ষের সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পাওয়া আশরাফুল ইসলাম বাবুল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে মারা গেছেন। বাবলু আহত হওয়ার পর এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলায় আমরা ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি।
শনিবার সকালে রাজশাহীর বাঘায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন বাঘা পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আক্কাছ আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, উপজেলার আড়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান শফি, আব্দুল খালেক, জার্মান আলী। গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল ও রফিকুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়। অন্যদের বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।
সংঘর্ষের দিন সকাল ১০টায় বাঘা উপজেলা সদরে সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে, বাঘা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন পৌর মেয়র আক্কাছ আলী। একই সময়ে উপজেলা পরিষদের সামনে বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তার দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগ। এই দুই কর্মসূচি ঘিরে আগে থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল।
সকাল সাড়ে দশটায় দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ককটেলও বিস্ফোরণ করা হয়। বেশ কিছু টিয়ারশেল ছুড়ে প্রায় পৌণে এক ঘণ্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
সাড়ে ১২ লাখে বিয়ে করেন ভারতীয়রা, শিক্ষায় খরচ অর্ধেক!
পরোয়ানার একদিন পরই জামিনে মামুনুল হক
ভাইকে ফেসবুক লাইভে ‘ধর্ষক’ বলে মামলা খেলেন বোন