বগুড়া কারাগার থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার কয়েদির পলায়নের পর তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ছাদ ফুটো করে বিছানার চাদর দিয়ে রশি তৈরি করে তারা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিরা হলেন— কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গা এলাকার নজরুল ইসলাম মজনু (কয়েদি নং-৯৯৮), নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার ফজরকান্দি এলাকার আমির হোসেন (কয়েদি নং-৫১০৫), বগুড়ার কাহালু পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. জাকারিয়া (কয়েদি নং-৩৬৮৫) এবং বগুড়ার কুটুরবাড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার ফরিদ শেখ (কয়েদি নং-৪২৫২)।
আসামিরা যে মামলায় বগুড়া জেলা কারাগারের কনডেম সেলে ছিলেন
কুড়িগ্রামের নজরুল ইসলাম মজনু (কয়েদি নং ৯৯৮) ও নরসিংদীর আমির হোসেন (কয়েদি নং-৫১০৫): একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি। ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি ভোররাতে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গা গ্রামের সুলতান মন্ডল, তার নাতনী রোমানা, আনিকা ও স্ত্রী হাজেরাকে কুপিয়ে খুন করে একদল মুখোশধারী। পরে সুলতান মন্ডলের ছেলে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রায়ে ৬ জনের মৃত্যুদন্ড দেয় আদালত। সেই ৬ জনের মধ্যে ২ জন হলেন নজরুল ও আমির।
বগুড়ার কাহালুর মো. জাকারিয়া (কয়েদি নং ৩৬৮৫): কাহালু উপজেলার রুস্তমচাপড় গ্রামে রফিকুল ইসলাম তালুকদারের ছেলে শিশু নাঈমুল ইসলাম নাঈমকে (১৩) গত ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণ করেন আসামি জাকারিয়া। কাহালুর চারমাথা এলাকা থেকে অপহরণ করে একটি দোকান ঘরে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে ওইদিন বিকালে নাকে-মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ বস্তায় ভরে জাকারিয়া তার বাবা মান্নানের ইটভাটার জলন্ত চিমনির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিশুর বাবা কাহালু থানায় জাকারিয়াসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ভাটা থেকে কিছু হাড়গোড় উদ্ধার করে। গত ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি এ হত্যা মামলার রায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়। তার মধ্যে একজন জাকারিয়া।
বগুড়ার কুটুরবাড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার ফরিদ শেখ (কয়েদি নং-৪২৫২): ২০১৯ সালের ১৯ জুন বগুড়া সদরের কুটুরবাড়ি গ্রামের ইয়াকুব আলী ও বাদশা শেখের পরিবারের মধ্যে ছাগলে ভাত খাওয়া নিয়ে ঝগড়া হয়। পরেরদিন বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশে শিশুদের ফুটবল খেলা দেখছিলেন বাদশা শেখের ভাই রফিকুল ইসলাম। এ সময় ইয়াকুবের পরিবারের পক্ষে মোহাম্মদ নয়ন নামের এক যুবক রফিকুলকে মারধর করেন। খবর পেয়ে রফিকুলের পরিবারের সদস্যরা ইয়াকুব আলীর পরিবারের কাছে নালিশ নিয়ে যান। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে বাদশা শেখের ছেলে আল আমিনের পাঁজরে বল্লম ঢুকিয়ে দেন প্রতিপক্ষ ইয়াকুব আলীর পরিবারের লোকজনেরা। এতে আল আমিন মারা যান। পরে আল আমিনের বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সিআইডি ২০২০ সালের ৩০ জুলাই ১১ জনকে আসামি করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর আদালত একজনের ফাঁসি, সাতজনের যাবজ্জীবন এবং তিনজনকে খালাস প্রদান করে রায় ঘোষণা করেন। সেই ফাঁসির আসামি ফরিদ শেখ।
বুধবার সকাল ১০টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বগুড়ার পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে খবর পাই বগুড়া কারাগারের একই সেল থেকে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ৪ আসামি পালিয়েছে। পরে সাড়ে চারটার দিকে শহরের চাষীবাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তিনি জানান, আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সুকৌশলে পালিয়ে গেছে।
চার আসামি পালানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম। বলেন, 'অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে এডিএম, গণপূর্ত, পুলিশ, র্যাব, কারাগার, ফায়ার সার্ভিস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। তাদের খুব দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিছানার চাদরকে রশি বানিয়ে জেল থেকে পালায় ৪ ফাঁসির আসামি
রিচ কিড ও তাদের বাঘ হাতি কিংবা ছাগল
রামমন্দিরে কীভাবে পানি ঢুকছে জানালেন ট্রাস্ট প্রধান
সাড়ে ১২ লাখে বিয়ে করেন ভারতীয়রা, শিক্ষায় খরচ অর্ধেক!