কেনিয়ায় তারুণ্যের প্রতিরোধ

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৪, ০১:২০ এএম

উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে কেনিয়ায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে উঠেছে। এর মধ্যে সরকার কর বৃদ্ধির আইন করায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার বিক্ষুব্ধ জনতা পার্লামেন্টে ভাঙচুর করার চেষ্টা চালালে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস এবং গুলি ছোড়ে। এ সময় পার্লামেন্ট ভবনের ভেতর থেকে আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগ দাবি করেছেন। মূলত তরুণরাই এ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এক্স ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ডিজিটাল অ্যাকটিভিজমের মাধ্যমে বিলটির বিরোধিতা করছে তারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, দেশটিতে এক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজধানী নাইরোবি ছাড়া দেশটির অন্যান্য বড় ও ছোট শহরেও বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের সাংবাদিক এডিথ কিমানি জানিয়েছেন, বিক্ষোভ নিয়ে সরকারের দাবি পুরোপুরি মেনে নেওয়া যায় না। যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অংশ নন। তারা মূলত যুব সমাজ। করের প্রস্তাব পার্লামেন্টে তোলার পর এই যুব সমাজ রাস্তায় নেমেছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু করেছে। তারা ভেবেছিল, পার্লামেন্টের রাজনীতিবিদেরা তাদের কথা শুনবেন। কিন্তু তাদের কথায় কর্ণপাত না করায় মঙ্গলবার বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠেছে।

এডিথের ভাষ্য, কেনিয়ায় এখন যুবসমাজের সংখ্যা বেশি। গোটা দেশের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশই যুবক। নতুন কর ব্যবস্থা সরাসরি তাদের রোজগার কমাবে। এমনিতেই কেনিয়ায় যুব সমাজের একটি অংশ হতাশ। চাকরি নেই, কাজ নেই। এর মধ্যে আয়ের ওপর নতুন কর কেউ ভালো চোখে দেখছে না। সেখান থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। এদিকে মঙ্গলবার পার্লামেন্টের বাইরে রয়টার্সের এক সাংবাদিক অন্তত পাঁচজন বিক্ষোভকারীর মরদেহ দেখেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিক্ষোভকারী ডেভিস তাফারি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা পার্লামেন্ট বন্ধ করে দিতে চাই এবং প্রত্যেক এমপির পদত্যাগ করা উচিত। আমাদের নতুন সরকার দরকার।’

মানবাধিকার গোষ্ঠী ও পুলিশের নজরদারি সংস্থা ইনডিপেনডেন্ট পুলিশিং ওভারসাইট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে একজন নিহত ও অন্তত ২০০ জন আহত হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, পাঁচ দিনে বিক্ষোভে জড়িত সন্দেহে কমপক্ষে ১২ জনকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে। মঙ্গলবার কেনিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম কেটিএন জানিয়েছে, বিক্ষোভের খবর প্রকাশের কারণে কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা চ্যানেল বন্ধের হুমকি পেয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারী, ইউক্রেন যুদ্ধ, টানা দুই বছরের খরা এবং মূল্যস্ফীতিসহ বেশ কয়েকটি ধাক্কায় জর্জরিত কেনিয়ার অর্থনীতি। এই পরিস্থিতির মধ্যে সরকার ঋণের বোঝা কমাতে কর অতিরিক্ত ২৭০ কোটি ডলারের বেশি বাড়ানোর বিল অনুমোদন করেছে।

রুটি, রান্নার তেল, গাড়ি এবং আর্থিক লেনদেনের মতো কিছু ক্ষেত্রে সরকার নতুন কর আইনে কিছু ছাড় দিয়েছে। কিন্তু তা বিক্ষোভকারীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। সরকারি হিসাব বলছে, কেনিয়া সরকারের বার্ষিক আয়ের ৩৭ শতাংশই যায় ঋণের সুদ পরিশোধে। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে অনুমোদন পাওয়া বিলটি এখন প্রেসিডেন্টের কাছে সই করার জন্য পাঠানো হবে। এ বিলে প্রেসিডেন্টের কোনো আপত্তি থাকলে তিনি তা পার্লামেন্টে ফেরত পাঠাতে পারেন। তবে তেমন হওয়ার সম্ভাবনা কম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত