৬০০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল প্রতিবাদের পর ১৮০০

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৪, ০৬:৪৩ এএম

ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম গত মে মাসের বিদ্যুৎ বিলের কপি হাতে পেয়েছেন জুনের ২০ তারিখ। কাগজে বিলের পরিমাণ দেখে তিনি অবাক। কেননা গত কয়েক মাসের তুলনায় এ মাসে দ্বিগুণ বিল এসেছে। অথচ আগের দুই মাসের চেয়ে মে মাসে বিদ্যুতের ব্যবহার কম করেছেন বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ বিভাগের কৌশলগত এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন ঝালকাঠি জেলা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ১ লাখ ৪৬ হাজার গ্রাহক।

সত্যনগর এলাকার উজ্জ্বল মৃধা বলেন, ‘প্রতি মাসে আমার বাড়ির চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল আসে দেড় হাজার টাকার মধ্যে। কিন্তু মে মাসের বিল করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৭ টাকা। বিল দেখে আমি হতাশ হয়ে স্থানীয় পল্লীবিদ্যুতের এজিএম মধুসূদন বাবুর কাছে গিয়ে এ ভৌতিক বিলের বিষয়ে জানতে চাইলাম। কিন্তু তিনি আমাকে এ ব্যাপারে কোনো সদুত্তর না দিয়ে আমার বিল কমিয়ে ১ হাজার ৮২৩ টাকা করে দেন।’

বিল কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা মধুসূদন বাবু এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ওই গ্রাহকের মিটারে সমস্যা থাকায় তিনি বাড়িতে কী কী ব্যবহার করেন তার ওপর অনুমান করে বিল করা হয়েছিল। অভিযোগ করায় তার আগের বিল দেখে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

রাজাপুর সদর এলাকার আল আমিন হাওলাদার জানান, এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎ বিল দিয়েছেন ৫৭০ টাকা, কিন্তু জুনের ২০ তারিখে পাওয়া মে মাসে বিল এসেছে ১ হাজার ২৫০ টাকা। একই এলাকার গ্রাহক ব্যবসায়ী জিয়াউল হক জানান, এপ্রিল মাসে তার বাড়িতে বিদ্যুৎ বিল হয়েছিল ৫ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু মে মাসের বিল করা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। এমন অবস্থায় কোনো কোনো গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও অনেকে বিল পরিশোধ থেকে বিরত থেকেছেন।

ঝালকাঠি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বেশ কয়েকজন গ্রাহক জানান, প্রতি মাসের ২৫ থেকে ২৬ তারিখে বিদ্যুতের মিটারের রিডিং নিলেও এবার মে মাসের রিডিং নেওয়া হয়েছে জুনের ১০ থেকে ১২ তারিখে। এতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিটের পরিমাণ বেশি এসেছে। গ্রাহকদের দাবি, বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিতে ইচ্ছে করেই ১০-১২ দিন পরে বিদ্যুতের রিডিং নিয়েছে। ১০ দিনের বাড়তি বিলে ট্যারিফের দুই ধাপ অতিক্রম করায় বিল দ্বিগুণ এসেছে। এভাবে ভৌতিক বিলের বোঝা চাপিয়ে জেলার দেড় লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এই ভৌতিক বিলের বিষয়ে তারা খুব শিগগিরই আন্দোলনে নামবেন বলে জানান।

জানা যায়, বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের মূল্য কয়েকটি ধাপে ভাগ করা আছে। কম ইউনিট ব্যবহার হলে দামও কম। এক মাসে কেউ শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে প্রতি ইউনিটের দর ধরা হয় ৪ টাকা ১৯ পয়সা, ব্যবহৃত ইউনিট ৭৬ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে প্রতি ইউনিটের দর বেড়ে দাঁড়ায় ৫ টাকা ৭২ পয়সা। এভাবে ছয়টি ধাপে (ট্যারিফ) ব্যবহৃত ইউনিট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দরও বাড়তে থাকে।

গ্রাহকরা বলছেন, মিটারের রিডিং দেরিতে নেওয়ায় তাদের ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিটও বেড়ে গেছে। ফলে তাদের বেশি দরে বিদ্যুতের বিল দিতে হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এটা সমন্বয় করা হলেও এতে লাভবান হচ্ছে পল্লীবিদ্যুৎ।

ঝালকাঠি পল্লীবিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে আমাদের মিটার রিডাররা সঠিক সময়ে রিডিং আনতে পারেননি। তাছাড়া ঈদের সময় বিদ্যুতের বেশি চাহিদা থাকায় এ মাসে বিল একটু বেশি এসেছে। তাছাড়াও কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে না, আমাদের কারণে বিল বেশি এলে তা সংশোধন করে দেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত