টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও এক শিক্ষকের প্রতারণার কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় ২২ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রবিবার সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে নিকরাইল শমশের ফকির ডিগ্রি কলেজের ওই ২২ পরীক্ষার্থী নিকরাইলের পলশিয়া রানী দীনমনি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর শুরু করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় কেন্দ্রের বাইরে গেটে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকরা পরীক্ষার্থীদের সান্ত¡না দিচ্ছেন আর দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
জানা গেছে, উপজেলার নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি টাকা দাবি করে। অনেক শিক্ষার্থী বাড়তি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক লোকমান হোসেন এই সুযোগে ফরম পূরণ বাবদ ২২ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নেন। গত শনিবার ওই ২২ পরীক্ষার্থী কলেজে প্রবেশপত্র নিতে গেলে তাদের ফরম পূরণ হয়নি বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। তারা শিক্ষক লোকমান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও প্রবেশপত্র পাননি।
শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজ থেকে এ বছর ১৭১ জন পলশিয়া রানী দীনমনি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
প্রবেশপত্র না পাওয়া পরীক্ষার্থীরা সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে ওই কেন্দ্রে গিয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র ত্যাগ করেন।
বঞ্চিত পরীক্ষার্থীরা বলেছেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি করা ৮ হাজার টাকা দিতে না পারায় তাদের ফরম পূরণ করা হয়নি। পরে কলেজের শিক্ষক লোকমানের মাধ্যমে ফরম পূরণ করে তারা জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। টাকা দিয়েও তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলেন না। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকের প্রতারণার কারণে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে। তারা যেকোনো মূল্যে পরীক্ষা দিতে চান।
এ ব্যাপারে প্রভাষক লোকমান হোসেন বলেন, ‘ওই ২২ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ হয়েছে। সব প্রমাণপত্র আমার কাছে রয়েছে। কিন্তু গতকাল (শনিবার) রাতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বোর্ডে ফোন করে ২২ পরীক্ষার্থীর ফরম বাতিল করেছেন।’
তবে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আক্তারুজাজামান বলেন, ‘ফরম পূরণের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীরা বৈধ প্রক্রিয়ায় কলেজের মাধ্যমে ফরম পূরণ করেননি। কারও কাছ থেকে বাড়তি ফি নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সত্য নয়।’
ভূঞাপুর থানার ওসি আহসান উল্লাহ জানান, পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কেন্দ্রে আন্দোলন করেন। পরে কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের অগোচরে এবং অবৈধভাবে ২২ পরীক্ষার্থীর এইচএসসির ফরম পূরণ করা হয়েছে বলে কলেজের অধ্যক্ষ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পরে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ওই ২২ পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ বাতিল করায় তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
