সাপে কাটা ব্যক্তির লাশ নিয়ে লঙ্কাকান্ড!

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৪, ১২:০৬ এএম

হাসপাতালে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণার পর লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে গ্রামে আসে সাপের কামড়ে নিহত সাইফুলের (৪০) লাশ। কাফনের কাপড়ে মুড়িয়ে জানাজার নামাজ ও দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় হঠাৎ এক কবিরাজের আগমনে পাল্টে যায় চিত্র। লাশ দাফনে স্বজনদের বাধা, মৃতকে জীবিত করতে কবিরাজের নানা আয়োজন, হাজারো উৎসুক জনতার ভিড়। এর মধ্যেই হঠাৎ কবিরাজ লাপাত্তা, অবশেষে শনিবার গভীর রাতে লাশ দাফন। এমনই লঙ্কাকান্ড ঘটেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বাসুরা গ্রামে। নিহত সাইফুল ইসলাম ওই গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে।

এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানান, গত শুক্রবার রাতে সাইফুল ইসলাম উপজেলার বাসুরা গ্রামের একটি বিলে রাতে মাছ ধরতে গেলে বিষধর সাপে কামড় দেয়। প্রথমে কবিরাজের কাছে নিয়ে ঝাড়ফুঁক শেষে রাতেই তাকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে সাইফুল মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণার পর লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে গ্রামে আসে সাইফুলের লাশ। কাপনের কাপড়ে মুড়িয়ে শনিবার দুপুর ২টার দিকে জানাজার নামাজ ও দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় হঠাৎ এক কবিরাজের আবির্ভাব ও তার ভেলকিবাজিতে পড়ে লাশ দাফনে বাধা দেয় স্বজনরা। ঝাড়ফুঁক ও কড়ি চালান দিয়ে মৃত ওই ব্যক্তিকে জীবিত করা সম্ভব, এমন আজব তথ্য দিয়ে ব্যাপক আয়োজন চালাচ্ছিলেন ওই কবিরাজ। কবিরাজ তাকে জীবিত করার চেষ্টা করছিলেন। এমন খবর পেয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করেন। কিন্তু কবিরাজ কড়ি আনার কথা বলে প্রথমে ঢাকার সাভারে পরে গাজীপুরের টঙ্গী যান। এরপর থেকে ওই কবিরাজ লাপাত্তা হলে অবশেষে গভীর রাতে লাশের দাফন সম্পন্ন হয়।

কালিয়াকৈর থানার ওসি এ এফ এম নাসিম বলেন, ‘যেহেতু তার পরিবারের আত্মবিশ্বাস, যদি ওঝা ভালো করতে পারে, সেজন্য এমন আয়োজন করে তারা। সেখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত