৪১ লাখ ৯ হাজার ৭৫৫ মামলা বিচারাধীন

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৪, ০৫:১৪ এএম

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মামলা জটের কথা অস্বীকার করার কিছু নেই। আজকের হিসাব হচ্ছে ৪১ লাখ ৯ হাজার ৭৫৫টি মামলা কোর্টে আছে। যতগুলো মামলা আছে তার নিষ্পত্তি করার জন্য বিচার বিভাগে যে বিচারক আছে তা অপ্রতুল। ২০০৯ সালে জুডিশিয়ারির সক্ষমতা ছিল ৮০০ বিচারক। আজকে সেই জুডিশিয়ারির সক্ষমতা হচ্ছে প্রায় দুই হাজার বিচারক। আমরা আরও আদালত বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দিয়ে রেখেছি। ১৫৮টি আদালত খুব শিগগিরই বেড়ে যাবে।

গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইন মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বিচারের জন্য ঘুরতে ঘুরতে মানুষের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা।

আইন মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আইন বড়লোকের জন্য। আইনকে শাসন করে অর্থ বিত্তশালীরা, আইন প্রয়োগ হয় সাধারণ গরিব মানুষের ওপর। বিচারের জন্য এই দরজা, ওই দরজায় ঘুরতে ঘুরতে মানুষের জীবন শেষ। বিচারকের অভাব রয়েছে। তাই সরকারের ইচ্ছা সত্ত্বেও বিচার কাজ বিলম্বিত হয়। তিনি প্রতিটি বিভাগে হাইকোর্টের বেঞ্চ করার দাবি জানান।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র তার উক্তিতে বলে গেছেনÑ ‘আইন! সে তো তামাশা মাত্র। বড়লোকেরাই কেবল পয়সা খরচ করিয়া সেই তামাশা দেখিতে পারে।’ আমি তা বলতে চাই না। গত ১৫ বছরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর বিচার হয়েছে। কিন্তু প্রতিকারহীন অপরাধে বিচারের বাণী যেন নীরবে নিভৃতে না কাঁদে। তিনি বলেন, আমার এলাকার গরিব আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক সরদার হত্যা মামলার চার্জশিট দিতে আট বছর লাগল। চার্জশিট গ্রহণ করা হলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, সুন্দর সুন্দর ভবন হয়েছে। কিন্তু লাখ লাখ মানুষ আদালতে ঘুরছেন। মামলাজট বাড়ছে। বিচারপ্রার্থীদের কষ্ট লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত