ইসলাম কখনো কাউকে নিন্দা করতে এবং নিন্দনীয় কোনো কাজ করতে উৎসাহ প্রদান করে না। বরং সম্মানের সঙ্গে মানুষকে জীবনযাপন করতে তাগিদ দেয়। কবিতার একটি লাইন আমরা প্রবাদ হিসেবে বলে থাকি, ‘নবীর শিক্ষা করো না ভিক্ষা, মেহনত কর সবে।’ সুতরাং শরীরে শক্তি থাকতে ভিক্ষা কীসের?
নিঃস্ব এবং নিতান্ত অসহায় ছাড়া ভিক্ষা করা একটি নিন্দনীয় কাজ এবং মানুষের কাছে খুব সহজে হাত পাতা নিচু স্তরের মানুষের পরিচয় বহন করে। অতএব এমন নিকৃষ্ট কাজ থেকে বেরিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী খেটে খাওয়া শ্রেষ্ঠ কাজ।
শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা ভিক্ষা করে তাদের ব্যাপারে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বাড়ানোর জন্য মানুষের কাছে সম্পদ ভিক্ষা করে, সে আগুনের ফুলকি ভিক্ষা করছে।’ (সহিহ মুসলিম ২২৮৯)
অন্য হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি অনবরত লোকের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করতে থাকবে। পরিণামে কিয়ামতের দিন যখন সে উপস্থিত হবে তার মুখমণ্ডলে গোশতের কোনো টুকরা থাকবে না।’ (সহিহ মুসলিম)
হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) একদা মিম্বরের ওপর থাকা অবস্থায় ভিক্ষা করা হতে বেঁচে থাকা প্রসঙ্গে বয়ান করতে গিয়ে বলেন, ওপরের হাত নিচের হাত অপেক্ষা উত্তম। ওপরের হাত দাতার, আর নিচের হাত হলো ভিক্ষুকের।’ (সহিহ বুখারি ১৪২৯)
