রূপগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান ৩ বোমা উদ্ধার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪, ০২:০১ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াত ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) সদস্যরা। ওই বাড়িটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যরা আস্তানা গেড়েছিল বলে জানিয়েছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এটিইউর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। সেখান থেকে তিনটি শক্তিশালী আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস), বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং চাপাতিসহ আরও বিভিন্ন রকমের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। বোমা তিনটি নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এটিইউর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাড়িটির তৃতীয় তলার কক্ষের ভেতরে একটি এবং বাকি দুটি ভবনের পাশে খোলা মাঠে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ সময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে।

এর আগে সকাল থেকেই জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে রূপগঞ্জের বরপা আড়িয়াবো এলাকায় সৌদি প্রবাসী জাকির হোসেনের বাড়িটি ঘেরাও করে রাখেন এটিইউ সদস্যরা। বিকেলে বাড়ির গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে সোয়াত টিমের সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করেন।

এদিকে রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ শিল্পাঞ্চল রূপগঞ্জ উপজেলাকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে এক হাজারের বেশি শিল্পকারখানা রয়েছে। শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে কাজের উদ্দেশ্যে। এ কারণে বেড়েছে ভাড়ার বাসার কদরও। এ উপজেলায় বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ভাড়া থাকেন কয়েক লাখ মানুষ। তবে নিয়ম অনুযায়ী কাউকে বাড়িভাড়া দেওয়ার আগে তার জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র নেওয়ার নিয়ম থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রূপগঞ্জ উপজেলার বাড়িওয়ালারা এ নিয়ম মানছেন না। এখানে মাসিক ভাড়া পেলেই দিয়ে দেওয়া হয় বাড়িভাড়া। এতে করে অনেক অপরাধীর নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। উপজেলার বরপা আড়িয়াবো এলাকার জঙ্গি আস্তানায় থাকা জঙ্গিদের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা নেননি বাড়িওয়ালা জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী বকুলী আক্তার। নাম-পরিচয় না নেওয়ায় তাদের শনাক্ত করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাড়িটিতে গোপনে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

জানা গেছে, আড়িয়াবো এলাকার ওই বাড়িটি সৌদী প্রবাসী জাকির হোসেনের। তার স্ত্রী বকুলী আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া থাকেন। তিনি মাঝে মাঝে ভাড়া নিতে আসেন। বাড়িটি দেখাশুনা করতেন সুন্নাত আলী ও তার ছেলে জুয়েল। তারা এক বছর আগে তৃতীয় তলায় উত্তর দিকের দুটি কক্ষ ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেন। ওই ব্যক্তি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ বাসাটিতে ওঠেন। তাদের চলাফেরা প্রথম থেকেই সন্দেহজনক ছিল বলে প্রতিবেশীরা জানান। তারা বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে মিশত না। রাতে তাদের বাড়িতে অচেনা লোকদের আনাগোনা ছিল। গত ৩-৪ দিন ধরে ওই দুটি কক্ষ তালাবদ্ধ দেখা গিয়েছে।

পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া ইমন বলেন, ‘এই এলাকায় বাড়িভাড়া নিতে কোনো কিছু লাগে না। খালি প্রত্যেক মাসে বাড়িভাড়া দিতে পারলেই হইয়া যায়। আমরা ওই হুজুরগো পাশের রুমেই থাকতাম। তাগো নাম ও ঠিকানা জিগাইলে তারা কিছু কইত না। আর বলত হেগো বাড়ি বাংলাদেশ।’

বাড়িটির কেয়ারটেকার জুয়েল বলেন, ‘আমি বাড়ির ভাড়া উঠালেও ওই হুজুরগো ভাড়া দিছিল বাড়ির মালিকের স্ত্রী বকুলী বেগম। ওই তাগো কাছ থেইকা কোনো কাগজপত্র নেয় নাই। গত দুইদিন তিনদিন ধইরা তাগো রুমের দরজা তালা দেওয়া।’

একই বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া শাহনেওয়াজ বলেন, ‘এই এলাকায় টাকা হলেই বাসা পাওয়া যায়। কোনো কাগজপত্র দেওয়া লাগে না। তবে বাড়িওয়ালার উচিত বাড়িভাড়া দেওয়ার আগে সব কাগজপত্র নেওয়া। তৃতীয় তলার ওই হুজুরদের কাছে রাত হলেই অনেক লোকজন আসত। এখন শুনছি তারা জঙ্গি সদস্য। পুলিশ তাদের ঘর থেকে বোমা উদ্ধার করেছে। এখন মনে হচ্ছে তারা তাদের রুমে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিত।’

অভিযানে অংশ নেওয়া এটিইউ কর্মকর্তা সানোয়ার সানী বলেন, ‘রুমের তালা ভেঙে অভিযান চালিয়ে তিনটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। বোমাগুলো রুমেই তৈরি করা হয়েছিল। দূর থেকে এগুলো বহন করা সম্ভব না। এখানে দুজন জঙ্গি ছিল। এদের মধ্যে একজন ছিল প্রশিক্ষক।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা তো নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করে। হয়তো তাদের বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত