দুদকের চার্জশিট

সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ও স্ত্রীর বিপুল সম্পদ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪, ০২:০২ এএম

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিটিএ) সাবেক চেয়ারম্যান এবং পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ড. মো. শামছুদ্দোহা খন্দকারের স্ত্রী ফেরদৌসী সুলতানা খন্দকারের নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। অথচ তার ২৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদ তিনি স্বামীর অবৈধ উপায়ে অর্জিত আয় দ্বারা করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ ছাড়া দুদকের তদন্তে তার স্বামী শামছুদ্দোহার খন্দকারের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৩ হাজার ৩৭৮ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে। এসব অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

দুদকের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি শামছুদ্দোহা খন্দকারের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলাটি তদন্ত করে দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম। তদন্তে শামছুদ্দোহা খন্দকার ও তার স্ত্রীর ফেরদৌসী সুলতানার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এ বিষয়ে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন সাংবাদিকদের বলেন, শামছুদ্দোহা খন্দকারের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনসহ বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। দুদকের তদন্তে শামছুদ্দোহা খন্দকারের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার ২২১ টাকার সম্পদ গোপনসহ ২ কোটি ৮৭ লাখ ৩ হাজার ৩৭৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন ব্যাংকে সন্দেহজনক তথা অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

দুদক সচিব আরও জানান, এ ছাড়া শামছুদ্দোহা ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী সুলতানা খন্দকারের বিরুদ্ধে ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩ হাজার ৮৯১ টাকার সম্পদ গোপনসহ ২৭ কোটি ৪৮ লাখ ৮২ হাজার ৪৯১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়। ফেরদৌসী সুলতানা খন্দকার পেশায় একজন গৃহিণী হয়েও বিভিন্ন ব্যাংকে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পেয়ে দুদক চার্জশিট দাখিল করে।

দুদক তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এই দম্পতির নামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ২৭ শতক জমি আছে। দলিলে এসব জমির দাম ৭০ কোটি টাকা দেখানো হলেও বাজারদর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া রাজধানীর গুলশানের ১৩৫ নম্বর রোডের এসইএস (এ) ৬ নম্বর প্লটে ১ বিঘা জমির ওপর নির্মিত একটি সরকারি ডুপ্লেক্স বাড়ি ৮ বছর ধরে দখলে রেখেছেন শামছুদ্দোহা, যার মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এই ৮ বছরে সরকারকে কোনো ভাড়া দেননি, উল্টো বাড়িটি বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত