চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ভুয়া তথ্য দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়েছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা পরিবার। উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা সেজে রোহিঙ্গা সাজেদা ও তার স্বামী হাসানসহ পরিবারের ছয় সদস্য এনআইডি পাওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি এলাকায় জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। স্থানীয় কতিপয় প্রতিনিধি টাকার বিনিময়ে এমনটা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের গুরা মিয়া চৌধুরীর পরিত্যক্ত ঘরে বসবাস করছে পরিবারটি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের দিকে স্বামী-স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে এলাকায় বসবাস শুরু করে ওই পরিবার। পরে ওই নারী ও তার স্বামী স্থানীয় এক পরিবারে গৃহস্থালীর কাজে যোগ দেন। এর মধ্যে তাদের সংসারে জন্ম নেয় পাঁচ সন্তান। পরে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় এনআইডি পান সাজেদা ও তার স্বামী। পরবর্তী সময় পিতা-মাতার এনআইডির সূত্র ধরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনলাইন জন্ম সনদ তৈরিতে মনোযোগী হয় পরিবারের অন্য সদস্যরা।
ইউনিয়ন পরিষদের কাগজপত্র থেকে দেখা যায়, ২০১৫ সালে জন্মসনদ তৈরির মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে পাড়ি জমান ওই পরিবারের বড় ছেলে ওসমান। ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এনআইডি পান আরেক ছেলে ইউছুপ। সম্প্রতি জন্মসনদ নেন দুই ছেলে আইয়ুব ও ইসমাইল। বাপের বাড়ি থেকে জন্মসনদ পেয়ে শ্বশুরবাড়ি পার্শ¦বর্তী ভুজপুর ইউনিয়নের ঠিকানায় এনআইডি তৈরি করেন মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস।
এদিকে অভিযুক্ত তার আদি নিবাস সিলেটের বাহারছড়া ও ইনানী স্থানের নাম উল্লেখ করলেও বাস্তবে দেখা গেছে, ইনানী সমুদ্রসৈকতের একটি নাম বাহারছড়া কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একটি ইউনিয়ন।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, এর দায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচন কার্যালয় এড়াতে পারে না। বিনিময় ছাড়া এমন কাজ কেউ করবে না।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলকাছ উদ্দিন বলেন, পরিবারটির ছয় সন্তানকে বাবা-মায়ের ঠিকানার সূত্র ধরে জন্ম সনদ দেওয়া হয়েছে। সাজেদা ও তার স্বামী যখন এনআইডির আওতায় আসে তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না।
জানতে চাইলে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম বলেন, তারা কীভাবে ভোটার হয়েছেন তা জানি না। বিষয়টি যেহেতু অভিযোগ আকারে এসেছে তদন্ত করে দেখা উচিত।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অরুণ উদয় ত্রিপুরা বলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ কাজে যেই জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। এ রকম একটি অভিযোগ পেয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
