নিথর দেহে এলেন প্রিয় দাবার অঙ্গনেই, শ্রদ্ধায় স্মরণ গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াকে

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪, ০২:৪৫ পিএম

প্রিয় দাবা খেলাটা খেলতে খেলতেই শুক্রবার সন্ধ্যায় অনন্তলোকে পাড়ি দিয়েছেন দেশের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। আজ সকাল সোয়া এগারোটার দিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে নিয়ে আসা হয় তার মরদেহ। সেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর শেষবারের মতো তাকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন দেশের ক্রীড়াঙ্গণের মানুষেরা।

পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্রীড়া সংস্থা অলিম্পিক এসোসিয়েশন, দাবা ফেডারেশন, বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন, দাবা, তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন। হ্যান্ডবল, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, সাইক্লিং ফেডারেশনসহ বিভিন্ন ফেডারেশনের খেলোয়াড়-কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত হন। এরপর মোহাম্মদ তাজমহল রোডের উদ্দেশে নেওয়া। সেখানেই আরেক দাবাড়ু বাবা পয়গম আহমেদের পাশে চিরশায়িত হবেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়া।

ওখানে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা বলেন, ‘জিয়া শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব দাবা অঙ্গনে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন আর্থিক ব্যাপারে তার পরিবারের পাশে থাকবে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও জিয়ার পরিবারের জন্য আর্থিক-অনার্থিক যেকোনো প্রয়োজনে এগিয়ে আসবো।’ দাবা ফেডারেশনের অন্যতম সহ-সভাপতি তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘গতকাল মাননীয় মন্ত্রী (নাজমুল হাসান পাপন) এবং আজ আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের আরেকজন অভিভাবক শাহেদ ভাই (বিওএ মহাসচিব) তার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। একটি বড় আর্থিক অঙ্ক স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) করে পরিবারের একটি সাপোর্ট প্রদান করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দাবা ফেডারেশন ও আমরা ব্যক্তিগতভাবে নেব।’

ক্রীড়াপ্রেমীরা শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াকে। ছবি: মোশারফ হোসেন

১৯৮৮ থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন দশকে ১৪ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে রেকর্ড গড়েন জিয়া। ছাড়িয়ে যান সবাইকে। এ ছাড়া ঘরোয়া অসংখ্য টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জিয়ার ছিল দৃপ্ত পদচারণ। ১৯৮৮ সালে বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে প্রথম অংশগ্রহণ। এরপর আর থেমে থাকেননি। প্রায় সব অলিম্পিয়াডেই তিনি ছিলেন বাংলাদেশ দলের সদস্য। ১৯৯৩ সালে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে রানারআপ হন। ১৯৯৯ সালে ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়নশিপেও হন দ্বিতীয়। ২০০১ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত রোডস আন্তর্জাতিক ওপেনে রানারআপ হয়ে গ্র্যান্ডমাস্টারের তৃতীয় ও চূড়ান্ত নর্ম অর্জন করেন জিয়া। এশিয়ান ব্যক্তিগত দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের আট আসরে খেলেছেন তিনি। পাঁচটি ফিদে ওয়ার্ল্ড কাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এশিয়ান জোনাল দাবায় চারবার চ্যাম্পিয়ন হন। এশিয়ান দলগত দাবায় খেলেছেন তিনবার। গেল দেড় দশকে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন জিয়া।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত