স্ত্রী হত্যায় ঢাকায় স্বামীর মৃত্যুদন্ড চট্টগ্রামে যাবজ্জীবন

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় স্ত্রী শাকিরা খাতুন সোমাকে হত্যার দায়ে স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ডও দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় দেন। এই মামলায় মনির দীর্ঘদিন জামিনে ছিলেন। গত ১৪ জুলাই মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ ধার্য করে আদালত এবং সেদিনই মনিরের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালে মনিরের সঙ্গে সোমার বিয়ে হয়। তাদের এক কন্যা সন্তান আছে। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমাকে টাকার জন্য চাপ দিতেন। সোমার পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে ১১ লাখ টাকা দেয়। এক পর্যায়ে আরও যৌতুক দাবি করে মনির সোমাকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন শুরু করে।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মনির মারধর করে সোমাকে বাসা থেকে বের করে দেন। সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। স্ত্রীকে আর কখনো নির্যাতন করবেন না এমন অঙ্গীকার দিয়ে সোমাকে কয়েকদিন পর বাসায় নিয়ে আসেন মনির। একই বছর ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে জবাই করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোমার মা আক্তার বানু ওইদিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মনির আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বোস্তামী আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৮ সালের ১৭ মে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। বিচার চলাকালে ১৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। 

এদিকে চিকিৎসার কথা বলে অসুস্থ স্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোস্তফা মোহাম্মদ এমরান বলেন, ‘আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে।’

আদালত সূত্র জানায়, ২০১১ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ার নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়। একবার ঈদের শপিং করতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন শাহনাজ। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম উদ্দিন। তবে হাসপাতালে না নিয়ে বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন তারা। পরে ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহনাজের বড় ভাই আজগর আলী বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত