রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম অফিসে বসে এক ব্যক্তির কাছে একটি খাম লেনদেন করেছেন এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও নিয়ে রাজশাহীতে চলছে আলোচনা। যদিও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে না খামে কী লেনদেন হচ্ছে। ওসির ঘুস লেনদেন বলেই ফেসবুকে অনেকেই মন্তব্য করছেন।
ওসিকে খাম দেওয়া ব্যক্তির দাবি, তার বোনকে শ্লীলতাহানির কিছু গোপনীয় নথিপত্র একটি খামে করে তিনি ওসিকে দিয়েছিলেন সেই ভিডিওই ছড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই খাম দেওয়ার সময় সেখানে বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই খামে করে নথিপত্র ওসিকে দেওয়া হয়।
ওসি মাহবুব দাবি করেছেন, ওই খাম নেওয়ার সময় তার কক্ষে আরো বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তার এবং পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুন্ন করতে এই ভিডিও ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন ওসি।
ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ওসি মাহবুব আলম তার চেয়ারে বসে আছেন। সামনে বসে থাকা এক ব্যক্তি কথা বলার ফাঁকে ওসির কাছে একটি ছোট খাম চান। ওসি মাহবুব আলম তার টেবিলের ড্রয়ার টেনে একটি খাম বের করে দেন। কথা বলতে বলতে কিছুক্ষণ পর সামনে থাকা ওই ব্যক্তি ওই খামটি ফেরত দিলে ওসি সেটি নিয়ে ড্রয়ারে রেখে দেন।
ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ওসি মাহবুব খাম দেওয়া এবং পরে আবার মাহবুবকে ওই ব্যক্তির খাম ফেরত দেওয়ার মাঝের কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। আবার খাম লেনদেন, ওসির বসে থাকা এবং ওই ব্যক্তির বসে থাকা দেখানো হলেও ওই ব্যক্তি খামের ভেতরে কী দিলেন সেটি ভিডিওটিতে নেই।
খাম ফেরত দেয়ার পর ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘আমি না পারতে এ পর্যন্ত আসলাম। বিশ্বাস করেন! আমি আরেকদিন এসে ডিটেইলস বলব তখন বুঝবেন ও আমাকে কী পর্যায়ে পেরেশানিতে নিয়ে আসছে। না হলে আমি আপনার কাছে আসতাম না যদি অফিসিয়ালি সলিউশন করতে পারতাম আমি। সে জিএম স্যারের কাছে ৪০ জন লোক নিয়ে গেছে রিমুভ ফরম সার্ভিস করার জন্যে আমার বোনের। আমি কী বোঝাবো বলেন! অন্যায় যে করে, আর যে সহে— দুজনে সমান অপরাধী।’
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে কথা হয় খাম প্রদানকারী মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে। তার বাড়ি রাজশাহী নগরীতেই। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার বোন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে চাকরি করেন। সম্প্রতি তিনি কর্মকর্তার দ্বারা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে তিনি ওসির সাথে দেখা করেন এবং কিছু নথিপত্র একটি খামে করে ওসিকে দেন। গত মাসের এই ঘটনা। এটি নিয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, সেখানে বেশ কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন। বেশি লোক থাকার কারণে গোপন নথিপত্র একটি খামে দেওয়া হয়েছিল। সেটি কেউ ভিডিও করে ভাইরাল করেছে। ওই খামে কোন টাকা দেওয়া হয়নি দাবি করে তিনি বলেন আমরা তো ভিকটিম। আমরা কেন পুলিশকে টাকা দিতে যাব।
এদিকে, ওসি মাহবুব আলম দাবি করেন, এটা গত মাসের ২০ তারিখের ঘটনা, এক নারীর শ্লীলতাহানী বিষয়ে কিছু নথিপত্র একজন খামে করে আমাকে দিয়ে গিয়েছিল। সেখানে মিডিয়া কর্মীসহ বেশ কয়েকজন উপস্তিত ছিলেন। সেটি কেউ ভিডিও করে রেখেছিল। তার এবং পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সেই ভিডিও ছড়ানো হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র জামিরুল ইসলাম বলেন, চন্দ্রিমা থানার ওসির একটি খাম লেনদেনের ভিডিও কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। তবে, খামে কী আছে সেটি নিশ্চিত না।
