ইউরোপের বাইরে খেলার প্রভাব মেসি-রোনালদোর বিবর্ণ পারফরম্যান্স?

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪, ১১:১৩ পিএম

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে। অন্যদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে ইকুয়েডরকে হারিয়ে উঠেছে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে।

দুটি আলাদা টুর্নামেন্ট হলেও রোনালদো ও মেসি এক বিন্দুতে মিলে গেছেন। আর তাদের এক বিন্দুতে মিলে যাওয়ার কারণটা দুজনেরই বিবর্ণ পারফরম্যান্স।

রোনালদো পুরো ইউরো আসর জুড়ে গোলের দেখা পাননি। মেসিও কোপায় ৩ ম্যাচ খেলে কোন গোল পাননি। এই দুজনের বিবর্ণ পারফরম্যান্সের কারণ কি? রোনালদোর বয়স ৩৯, মেসির ৩৭। বয়স খারাপ পারফরম্যান্সের একটি কারণ হতে পারে।

তবে কি ইউরোপের বাইরে ক্লাব ফুটবল খেলার প্রভাব পড়েছে তাদের খেলায়? ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের সঙ্গে অন্য লিগের তুলনা করাটা বোকামি। মেসি ও রোনালদো তাদের ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়ই খেলেছেন ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে।

মেসি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার আগে খেলেছেন বার্সেলোনা ও পিএসজিতে। অর্থাৎ স্পেন ও ফ্রান্সের লিগে। রোনালদো সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেওয়ার আগে খেলেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্তাসে। অর্থাৎ ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির লিগে।  

গ্লোবাল ফুটবল র‌্যাঙ্কিংয়ের গেল মার্চে প্রকাশিত লিগ র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৬ নম্বরে ছিল এমএলএস। আর সৌদি প্রো লিগ ২৬ নম্বরে। আবার অপ্টার ক্লাব র‌্যাংকিংয়ের হিসাবে ইন্টার মায়ামির চেয়ে এগিয়ে আছে আল নাসর।

মেসি খেলেন মায়ামিতে, রোনালদো আল নাসরে।

নাসর আছে ৮৩ নম্বরে তো মায়ামি ১৪৮ নম্বরে। তাই কোন লিগ এগিয়ে সৌদির না যুক্তরাষ্ট্রের আবার কোন দল বেশি শক্তিশালী আল নাসর নাকি ইন্টার মায়ামি সেটি নিয়ে ভিন্ন তর্ক হতে পারে।

এই র‌্যাঙ্কিং আমলে নিলেও একটি বিষয় পরিষ্কার, রোনালদো ও মেসি আগে খেলেছেন শীর্ষ পাঁচ লিগে এখন তারা শীর্ষ ১০ লিগের মধ্যেও নেই।

একজন ফুটবলার কোন পর্যায়ে ফুটবল খেলছেন তার প্রভাব পরতে পারে পারফরম্যান্সে। কারণ জাতীয় দলের খেলা বাদে বেশিরভাগ সময়ে খেলোয়াড়রা খেলে থাকেন লিগ ফুটবলে। ইউরোপে খেলছেন না, তার মানে এই নয় যে মেসি বা রোনালদোর মধ্যে ভালো করার তাড়নাটা নেই। তবে এমএলএস বা সৌদি লিগে যে ইউরোপে খেলার মতো চাপটা নেই তা মেসি-রোনালদো নিজেরাও বলেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত