রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

২৫ বছরের এমবাপ্পেকে ঠেকানোর ভার ৩৮ বছরের ‘কালজয়ী আশ্চর্য’ নাভাসের

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন দলটি এবারের ইউরোতে দুর্দান্ত জৌলুশ ছড়াচ্ছে। কয়েক প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া ফুয়েন্তের ‘মুক্তার মালা’ স্পেন ফাইনালে ওঠার লড়াইতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের। এই স্পেন দলে সদ্য স্কুল পেরোনো লামিন ইয়ামাল যেমন খেলছেন তার চেয়ে দ্বিগুণ বয়সী দানি কারভাহালের সামনে। অবশ্য ৬ বারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী দুর্ভাগা কারভাহাল খেলতে পারবেন না মহাগুরুত্বের সেমিফাইনাল ম্যাচে। তাতে অবশ্য ধার কমছে না স্পেনের। কেননা ফুয়েন্তের থলেতে আছেন ৩৮ বছরের ‘কালজয়ী আশ্চর্য’ জেসুস নাভাস।

এমন বিশেষণের পেছনে রয়েছে যৌক্তিক ব্যাখ্যা। ইয়ামালের জন্মের আগেই দুইবার উয়েফা কাপ জিতেছেন নাভাস। গত ২১ বছর ধরে ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পেশাগত দক্ষতা দেখিয়ে আসছেন তিনি। এখনকার ফুটবল বিশ্বে ৩৮ বছর বয়সী কোনো ফুটবলারের দক্ষতা প্রকাশ করতে গেলে ‘গতি’ কখনোই প্রথম নিয়ামক হওয়ার কথা না। তবে নাভাসের বেলায় খাটে না এ সরল সত্য। নিজের শরীরকে এমনভাবে তৈরি করে রেখেছেন নাভাস যে তার শরীরে মেদের পরিমাণ শূন্য (০) শতাংশ। সময় বদলেছে, কিন্তু নাভাস বদলাননি। ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন রাইট উইংয়ে, সেখান থেকে হয়েছেন রাইট ব্যাক, তবে রয়ে গেছেন সেই আগের মতোই।

গত দুই দশক ধরে ফুটবল মাঠের ডান প্রান্ত ধরে ওপরে-নিচে ওঠা নামা করার ক্ষমতায় নাভাসের মত পারঙ্গম ফুটবলার খুব কমই আছেন। নাভাসের উইঙ্গার থেকে ডিফেন্ডার বনে যাওয়ার বুদ্ধিটি এসেছিল পেপ গার্দিওলার মস্তিষ্ক থেকে। যে বুদ্ধির প্রয়োগে ক্যারিয়ারটি এত লম্বা করেছেন নাভাস, সেই ক্ষমতায় ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হতে পারে ফুয়েন্তের ব্রক্ষ্মাস্ত্র। কেননা ফ্রান্স আক্রমণের তীর কিলিয়ান এমবাপ্পেকে আটকানোর কাজের ভার অনায়াসেই নাভাসে কাঁধে সপে দিতে পারবেন ফুয়েন্তে।

স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের গোলটি নাভাসের পা বা বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে না এলেও অবদান রয়েছে তার। সেই সময় স্পেনের বিখ্যাত টিকিটাকা দর্শনে মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা যখন আড়াআড়ি পাসে অভ্যস্ত তখন সোজাসুজি ভোঁ দৌড়ে ব্যস্ত থাকতেন নাভাস। এ কারণেই তার দিকে বাড়ানো বলটি মিস করেছিলেন নাভাস। কিন্তু তাকে সামলাতে ব্যস্ত থাকা রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে তা গিয়ে জুটেছিল সেস ফ্যাব্রিগাসের কাছে। এরপর ইনিয়েস্তার পা ছুঁয়ে তা জড়ায় জালে। ওই সময় নাভাস দলের দর্শন উপযোগী উইঙ্গার না হলেও ফুয়েন্তের স্পেন দলে প্রয়োজন এমনই গতিসম্পন্ন খেলোয়াড়ের।

এমবাপ্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নাভাসের টেকার কথা না। তবে এখানে ভাগ্য সহায় স্পেনের। এমবাপ্পের নাকের ইনজুরি, মাস্ক এবং ইউরোতে অপয়া ফর্মের প্রত্যেকটি অনুষঙ্গই কাজে আসতে পারে নাভাস ও তার দলের। এই বছর পর অবসরে যাবেন নাভাস-এ ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছেন। তার বর্তমান ক্লাব সেভিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া কারাসকো এরই মধ্যে তাকে ক্লাবের কিংবদন্তি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।

নাভাস কি এমবাপ্পের সঙ্গে দ্বৈরথে জয়ী হবেন! এবার বার্লিনে ঝান্ডা উড়বে স্পেনের! তার উত্তরের জন্য মিউনিখে যে নাভাসের ওপরেই যে পুরোটুকু বিশ্বাস রাখতে হবে স্প্যানিশদের।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত