প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, বিগত দেড় দশকে জাতি হিসেবে অর্জনের ঝুলি সমৃদ্ধ হলেও দুর্নীতির অতলবিস্মৃত ব্যাধি থেকে আমরা মুক্ত হতে পারিনি। উন্নয়নের সুফলগুলো দুর্নীতির চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
আজ সোমবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রবর্তিত ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ কার্যক্রমের আওতায় ‘দুর্নীতি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সম্বন্ধে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বিচারপতি এ সময় আদালত অঙ্গনে কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রসঙ্গেও কথা বলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা, জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন থেকে শুরু করে সামাজিক সুরক্ষা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব- এরকম নানান মাত্রায় আমরা অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছি। কিন্তু একই সঙ্গে স্বীকার করতে হবে, দুর্নীতির মতো অতলবিস্মৃত ব্যাধি থেকে আমরা পুরোপুরি মুক্ত হতে পারিনি। আমাদের উন্নয়নের সুফলগুলো দুর্নীতির চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের উজ্জল অর্জনগুলো দুর্নীতির অন্ধকারে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, এ দুর্নীতি আমাদের আমাদের জন্য একদিকে যেমন কলঙ্কের অপমানের, তেমনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে সবচে বড় অন্তরায়। আমাদের সুবিচাবোধের উন্মেষের পথে বৃহত্তম প্রতিবন্ধক।
তিনি বলেন, স্বীকার করতে দ্বিধা নেই আদালতের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি প্রবণতার নানা তথ্য ক্রমে আমাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে, শঙ্কিত করে তুলছে। মামলা দায়েরের পর বিচারকের সামনে তা উপস্থাপন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎকোচ গ্রহণের প্রবণতা দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের আইন অঙ্গনকে দূষিত করছে।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি দেখেছি আমাদের বিচারকেরা অসম্ভব মেধাবী এবং বেশিরভাগ বিচারকই সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে চান। কিন্তু গুটি কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বিচারকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অধিকার কারও নেই।’
সভায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃঢ় ও কঠোর অবস্থান নিয়েও কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, সদ্য স্বাধীন দেশে দুর্নীতির প্রাদুর্ভাব বঙ্গবন্ধুকে কতটা বেদনায় আক্রান্ত করেছিল তা বোঝা নিশ্চই কষ্টকর কিছু নয়।
কেবল আইন দিয়ে দুর্নীতি মতো সমস্যার সমাধা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য দরকার সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন। তরুণ প্রশ্ন করতে হবে তাদের পিতা-মাতার অর্জিত অর্থটা ন্যায়সঙ্গত পথে এসেছে তো? স্ত্রী দের কৌতুহল থাকতে হবে, স্বামীর বিত্ত- বৈভবে অবৈধ অর্থের অংশ নেই তো? বন্ধু- পরিজনদের সচেতন থাকতে হবে, নিকটজনের উপার্জনটা সঠিক নিয়মে হচ্ছে তো? এটাই সামাজিক সচেতনতার প্রথম ধাপ।’
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘দুর্নতিবাজ পিতা, স্বামী বা স্ত্রীকে, দুর্নীতিবাজ সহকর্মীকে একঘরে করা না গেলে বয়কট করা না হলে কখনোই দুর্নীতির গভীর ক্ষত সেরে উঠবে না।’
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান।
হঠাৎ ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, ৩ ঘণ্টা ধরে আটকা যাত্রীরা
সৌরভ গাঙ্গুলিকে হীরের আংটি দিয়ে প্রপোজ!
শিবচরে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে
রথযাত্রায় আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী