বৃষ্টির পানিতে ভিজে বালিশ, একটু বাতাসেই কাঁপে বিধবার ঘর

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৪ পিএম

পরিবারের রোজগারের একমাত্র মানুষ ছিলেন স্বামী মাসুদ মিয়া। তিনি পেশায় ছিলেন একজন সিএনজি চালক। প্রয়াত হয়েছেন ১ মাস আগে। রেখে গেছেন স্ত্রী-সন্তান,মাসহ ছয় সদস্যের সংসার।

মারা যাওয়ার দেড় বছর আগে কিস্তিতে ৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলেন একটি সিএনজি। সিএনজি চালিয়ে আয়ের টাকায় গাড়ির কিস্তি দেওয়ার পর যা থাকতো তা দিয়ে  কোনোমতে টেনেটুনে খেয়ে-না খেয়ে চলতো সংসার। সিএনজির ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা পরিশোধ করার মাথায় মাসুদ মিয়া মারা যান। তার স্বপ্ন ছিল গাড়ির কিস্তি পরিশোধ করে আস্তে আস্তে টাকা জমিয়ে  বানাবেন একটি ঘর। সেই ঘরে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সুখে কাটাবেন  জীবনের বাকিটা সময়। কিন্তু তা আর হলো না! গাড়িটিও দিয়ে দিতে হয় কোম্পানিকে।

চলতি বর্ষায় জরাজীর্ণ একটি চালা ঘরে পাঁচ ছেলে-মেয়ে ও বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে থাকা বেকায়দায় পড়েছেন মাসুদ মিয়ার স্ত্রী বিধবা কোহিনূর আক্তার(৩৬)। ঘরের চালে অসংখ্য ফুটো। হালকা বৃষ্টিতেই ঘরের চাল বেয়ে পানিতে ভিজে বালিশ। ঘরে থাকা হাঁড়ি-পাতিল, বালতি পাতেন বৃষ্টির পানি আটকাতে। তবুও হয় না শেষ রক্ষা। বৃষ্টির পানিতে ভিজেই সন্তানদের নিয়ে কাটে নির্ঘুম রাত। একটু জোরে বাতাস বইলেই কাঁপতে থাকে ঘর।

পাশেই আরেকটি বাঁশের বেতের ছাপড়া ঘরে থাকেন প্রায় শত বছর বয়সী বাক প্রতিবন্ধী শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম। পুত্রবধূ আর নাতিনাতনি এমন কষ্টে তিনি শুধু বোবাকান্না করেন। তাদের ভিটেমাটি ছাড়া নেই কোন জমি, নেই জমানো অর্থকড়িও।

কান্না জড়িত কণ্ঠে বিধবা কোহিনূর আক্তার বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে দিন পার করতেছি।  প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনেরা বাজার-সদাই করে দিলে খাওয়া হয়। না দিলে উপোস থাকা লাগে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছি থাকার ঘরটা লইয়্যা। চালের ছিদ্র দিয়া পানি পড়ে ঘরের ভিতরে। একটু জোরে বাতাস আসলেই কাঁপতে থাকে ঘর। মনে হয় এখনই বুঝি ঘর উড়িয়ে নিবে।“

কাঁদতে কাঁদতে তিনি আরও বলেন, “এখন আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। কীভাবে চলবে সংসার? কীভাবে হবে সন্তানদের পড়াশোনা। সরকারিভাবে বা কোন সংগঠন কিংবা দানশীল মানুষ যদি আমারে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে হয়তো খাইয়া-না খাইয়া কোনমতে থাকতে পারতাম।

বিধবা কোহিনূর আক্তারের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত মাসুদ মিয়ার স্ত্রী। তার পাঁচ ছেলে-মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে মাঈনুল ইসলাম হিরা পিতাম্বর পাড়া হুসাইনিয়া বহুমুখী কামিল মাদ্রাসা ও বিএম কলেজের প্রথম বর্ষের একজন ছাত্র। ছোট ছেলে সিফাতুল ইসলাম চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তিন মেয়েদের মধ্যে মাওয়া আক্তার নাদিয়া সপ্তম শ্রেণিতে, লাবিবা আক্তার ২য় শ্রেণিতে পড়ে। সবার ছোট মেয়ে রামিনার বয়স মাত্র দেড় বছর।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সারমিনা সাত্তার বলেন, “কোহিনূরের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তার বিষয়ে খোঁজখবর নিব। এ ছাড়া তিনি যদি সরকারি কোন সুযোগ সুবিধার জন্য আবেদন করেন, তাহলে তার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।“

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত