হলের কক্ষে কক্ষে আন্দোলনকারীদের খুঁজছে রাবি ছাত্রলীগ   

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৪, ১১:৫২ এএম

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে হলের কক্ষে তল্লাশি চালাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার অনুসারীরা হলের কক্ষে কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অন্তত ৬টি কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। 

এর আগে রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মাদার বখশ হলের প্রথম ও দ্বিতীয় ব্লকের শিক্ষার্থীরা থালা বাজিয়ে বিভিন্ন স্লোগান শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের নির্দেশে 
তাঁর ব্লকের কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম থালা বাজিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে। এটা দেখতে যে কোন কোন শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে 
স্লোগানে যুক্ত হন। পরে প্রথম ও দ্বিতীয় ব্লকের বেশ কিছু শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে স্লোগান দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে হলে প্রবেশ করেন আসাদুল্লা-হিল-গালিবসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাদের বেশ কয়েকজনের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়।

এ সময় তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, ‘ওই বাঘের বাচ্চারা চিল্লা, এখন চিল্লা’। পরে তারা ওই প্রথম তলার তৃতীয় ব্লকের শিক্ষার্থীদের রুমে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। 

এ সময় হলে প্রবেশ করেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু। এর কিছুক্ষণ পর আসেন হল প্রাধ্যক্ষ  মো. রুকনুজ্জামান, আবাসিক শিক্ষক আমিরুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক। পরে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রাধাক্ষের কক্ষে গিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে হল ত্যাগ করেন। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আসাদুল্লা-হিল-গালিব বলেন, ‘মধ্যরাতে মাদার বখশ হলের প্রথম ও দ্বিতীয় ব্লকের শিক্ষার্থীরা থালা বাজিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আমি ও আমার নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসি। এরপর কয়েকটি কক্ষের শিক্ষার্থীদের রুমে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাই এবং তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যেন হলের পরিবেশ অস্থিতিশীল করা না হয়।’

লাঠিসোঁটার বহনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই খালি হাতে হলে ঢুকেছি। এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’

সার্বিক বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ মো. রুকনুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি হলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখতে পেয়েছেন। তল্লাশি চালানোর মতো কিছু দেখতে পাননি। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে যা যা করণীয় হল প্রশাসন তাই করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত