বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পরও দেখা মিলছে না প্রক্টর শরিফুলের

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৮:৩৬ পিএম

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কোটা সংস্কার চাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় আবু সাঈদ নিহত হলেও দেখা মিলছে না প্রক্টর শরিফুল ইসলামের। অভিযোগ উঠেছে, উত্তাল পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের হাতে দিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন তিনি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে চলছে সমালোচনা।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক মোড়ে রংপুরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীরা জমায়েত হয়। এ সময় পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আবু সাঈদ। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক। এছাড়াও এদিন সাংবাদিকসহ অন্তত ৮০ জন আন্দোলনকারী আহত হয়।

এদিন সকাল থেকে আন্দোলনের জন্য জমায়েত হওয়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়মুখী হলে তাদের বাধা দেয় পুলিশ ও ছাত্রলীগ। এ সময় প্রক্টর বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আবু সাঈদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়ার প্রাইভেট কারসহ বঙ্গবন্ধু হলে থাকা সব মোটরসাইকেল পুড়িয়ে ফেলে। আগুন একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে লেগে নিচতলায় বেশ কিছু কক্ষের জিনিসপত্র পুড়ে যায়।

ছবি: প্রতিনিধি

এর আগে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে ঢুকলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা গ্যারেজের পাশ দিয়ে প্রাচীর ডিঙিয়ে কারমাইকেল কলেজে চলে যায়। এ সময় পুলিশ হলে অবস্থান করে। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে গিয়ে বিক্ষোভ করলে উপাচার্য ও প্রক্টর না আসায় তারা ভাঙচুর করে এবং গাড়িয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকাল জেলা ও মহানগর  ছাত্রলীগ, যুবলীগ যখন ক্যাম্পাসে ঢুকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে তখন প্রক্টর নিজে গেটে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। তিনি তাদের কিছু বলেননি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কোনো নির্দেশ দেননি। আজও তিনি আন্দোলনের শুরুতে কিংবা এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সামনে বা পুলিশসহও এলেন না। আমাদের আবু সাইদ মারা যাওয়ার পরেও তিনি একবার এসে দেখা দেননি। তিনি কোথায় আছেন, কেন আসছেন না সেটাও জানি না।

এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রবিউল ইসলাম মিলন একজন লেখেন, ‘বেরোবি প্রশাসন হাতে চুড়ি ও শাড়ি পড়ো।’

এদিকে আন্দোলনকারীরা শক্ত অবস্থান নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এর আগে হলে আটকে পড়া পুলিশদের উদ্ধার করতে ক্যাম্পাসে ঢুকে রংপুর র‍্যাব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে জানতে প্রক্টর শরিফুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ২ ঘণ্টা ধরে বারবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।

হলের নিরাপত্তা সম্পর্কে জানতে প্রভোস্ট বিজন মোহন চাকীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও সাড়া দেননি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পার্ক মোড়, সর্দার পাড়া, চকবাজার, মডার্ন, লালবাগ, কামার পাড়াসহ রংপুরের অনেকাংশই থমথমে পরিস্থিতিতে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত