মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় ওসিসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে দোহারের পদ্মা সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী বিল্লাল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, বুধবার (১৭ জুলাই) বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে মাওয়া চৌরাস্তা থেকে একটি মিছিল নিয়ে পদ্মা সেতু টোল প্লাজা সংলগ্ন ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অবস্থান করেন লৌহজং উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল হোসেন সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি করেন- যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবি না মানা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা সড়ক থেকে নড়বেন না। একপর্যায়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও ৬ রাউন্ড টিআরসেলও নিক্ষেপ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে পদ্মা সেতু উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান, এএসআই আনিচুর রহমান, নারী কনস্টেবল লতা আক্তার, শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসেন, রিমু আক্তার রাজন, শাওনসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।
বিল্লাল নামক পরীক্ষার্থীকে আটকের পরে পদ্মা সেতু উত্তর থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। আটককৃত শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসেন উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়নের চন্দ্রেরবাড়ি গ্রামের মান্নান মৃধার ছেলে। তিনি দোহারের পদ্মা সরকারি কলেজ থেকে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী। এখনও পদ্মা সেতু এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) মো. তোফায়েল হোসেন সরকার দেশ রূপান্তরকে জানান, হঠাৎ মাওয়া থেকে একটি মিছিল নিয়ে আসে শিক্ষার্থীরা। এরপর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অবস্থান করে গাড়ি চলাচল বন্ধের চেষ্টা করে। আমরা শিক্ষার্থীদের বুঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু তারা আমাদের নির্দেশনা মানেনি। পরে আমরা লাঠিচার্জ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেই।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের হামলায় আমাদের উত্তর থানার ওসিসহ তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় আমরা এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছি।
