গাইবান্ধায় কোটা সংস্কার ও শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন থেকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা।
এর আগে বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে গাইবান্ধার সদর থানায় কর্মরত এসআই বাতেন বাদী হয়ে ‘পুলিশের ওপর আক্রমণ ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়। মামলায় ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয় ৩০০-৪০০ জনকে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীও রয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বুধবার কোটা সংস্কারের দাবি এবং শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদে গাইবান্ধা শহরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সকাল ১১টা থেকে জেলা শহরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দলেবেধে পৌরপার্কে সমবেত হয়। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের ডিবি রোড হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে উল্টো মোড় নিয়ে আবার পৌরপার্কের দিকে আসে। পরে রেলগেটের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করে তারা।
এ সময় সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ থাকতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ শেষে তারা রেলগেট সংলগ্ন জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা অফিসের সামনে রাখা পাঁচ-ছয়টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করে। পরে অফিসের ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় অন্তত কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
হামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গাইবান্ধা পৌর মেয়র মতলুবর রহমান সাংবাদিক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীসহ অনন্ত ৩০ জন আহত হয়।
এদিকে,ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পাল্টা হামলা চালিয়ে অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ বিএনপির নেতাকর্মীদের।
