সাগরিকার হ্যাটট্রিকে বাংলাদেশের বড় জয়

ভুটান ১-৫ বাংলাদেশ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫০ পিএম

ম্যাচের ১৩ মিনিটে গোলকিপার রূপনা চাকমার ভুলে গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। সেই লিড ধরে রেখে বিরতিতে গিয়েছিল স্বাগতিক ভুটান। তবে বিরতি থেকে ফিরেই অন্য রূপে বাংলাদেশ। গুনে গুনে পাঁচ গোল ফিরিয়ে দিয়ে ভুটানের বিপক্ষে শতভাগ জয়ের রেকর্ড অক্ষুণœ রেখেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বুধবার থিম্পু চ্যাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে ফিফা প্রীতি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক বদলি সাগরিকা। সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করেন এই তরুণ স্ট্রাইকার। এছাড়া অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও ঋতুপর্ণা চাকমা একটি করে গোল করেন। 

বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার ফরোয়ার্ডে অভিজ্ঞ সাবিনার সঙ্গে অভিষিক্ত সুলতানাকে রেখে একাদশ সাজিয়েছিলেন। চীনা তাইপের বিপক্ষে আগের সিরিজে চোটের কারণে বাইরে থাকা মারিয়া মান্ডা অবশ্য ফিরেছিলেন একাদশে। তবে গত সিরিজের মতো এই সিরিজেও শুরুর একাদশে সুযোগ পাননি রাইট উইঙ্গার সানজিদা। তবে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর সাগরিকা ও সানজিদাকে মাঠে নামাতেই বদলে যায় বাংলাদেশের চেহারা। সাগরিকার একের পর এক নির্ভুল ফিনিশে ভুটান দিগ্ভ্রান্ত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ভুটানের বিপক্ষে পঞ্চম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা বাংলাদেশ মাঠ ছেড়েছে আগের মতোই জয়ের তৃপ্তি নিয়ে। 

শুরুটা বাংলাদেশ করেছিল আক্রমণাত্মক। সেটাই কাল হয় তাদের জন্য। নিজেদের ঘরের কথা না ভেবে সবাই মিলে আক্রমণে উঠেছে তারা। যার সুযোগ কাজে লাগাতে বারবার ভুটানের ডিফেন্ডাররা লম্বা বল ফেলেছেন বাংলাদেশের অর্ধে। ১৩ মিনিটে যার সুফল তারা পেয়েছে অভিজ্ঞ গোলকিপার রূপনা চাকমা ও ডিফেন্ডার নিলুফার ইয়াসমিনের শিশুতোষ ভুলে। মারিয়ার একটি ফ্রি-কিক মানব দেয়ালে বাধাপ্রাপ্ত হলে পেয়ে যান ভুটানের এক ডিফেন্ডার। দ্রæত তিনি বল ফেলেন বাংলাদেশের অর্ধে। লক্ষ্য ছিল ফরোয়ার্ড ইয়াংডেন। ভুটানের এই ফরোয়ার্ড বল ধরার আগেই অবশ্য বক্স ছেড়ে বের হয়ে এসে দ্রæত ক্লিয়ার না করে পাস দেন পাশে থাকা নিলুফারকে। তবে নিলুফার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই ভুটানের অধিনায়ক পেমা শেরিং কেড়ে নেন। এরপর বক্সের বেশ বাইরে থেকে ফাঁকা পোস্টে বল জমা করে উল্লাসে মেতে ওঠেন। 

আচমকা গোল খেয়ে কিছুটা অগোছালো হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। বলের নিয়ন্ত্রণ রেখেও সেভাবে আক্রমণে যেতে পারেনি তারা। বরং প্রতি-আক্রমণে বার দুয়েক ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করেছে ভুটান। বিরতি থেকে বাংলাদেশ দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে ফেরে। অভিজ্ঞ রাইট উইঙ্গার সানজিদার সঙ্গে অভিষেক হয় ফরোয়ার্ড সাগরিকার। এর চার মিনিট পরেই দারুণ গোলে দলকে সমতায় ফেরান সাগরিকা। সাবিনার কাছ থেকে বল পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে বডি ডজে ছিটকে ফেলে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে বল দূরের পোস্টে জড়িয়ে দেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই স্ট্রাইকার। পরের মিনিটে একাই বাঁ দিক দিয়ে বল নিয়ে ঢুকেছিলেন সাগরিকা। তবে শট নেওয়ার আগ মুহ‚র্তে ভুটানের ডিফেন্ডার দারুণ বøক করেন। ৫৩ মিনিটে সাবিনা এগিয়ে নেন বাংলাদেশকে। এবার বাঁ দিক থেকে সাগরিকার ক্রস কিপার ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি। সুযোগ বুঝে বল জালে জড়ান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
দুই মিনিট পর ৩-১ করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। সানজিদার পাস ধরে মার্কারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে গোল করেন এই উইঙ্গার। ৭৩ মিনিটে রূপনার অসাধারণ প্রচেষ্টায় ব্যবধান কমাতে পারেনি ভুটান। বাংলাদেশ কিপারকে একা পেয়েছিলেন হাজম। তবে তার শট পা দিয়ে বøক করেন রূপনা। ৭৬ মিনিটে বদলি সতীর্থ সুমাইয়া মাতসুশিমার বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে তিনবারের প্রচেষ্টায় নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সাগরিকা। 

ম্যাচের যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাগরিকা। শিউলি আজিমের ক্রস আয়ত্তে নিতে এগিয়ে এসেছিলেন ভুটান কিপার। সাগরিকা তার আগেই বল আলতো টোকায় আয়ত্তে নিয়ে ফাঁকা পোস্টে ধীরেসুস্থে জমা করে অভিষেকটা হ্যাটট্রিকে রাঙান। 

ভুটানের বিপক্ষে দু’বছর আগে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের জয় ছিল ৮-০ ব্যবধানে। এর আগের চার ম্যাচের একটিতেও বাংলাদেশকে কোনো গোল হজম করতে হয়নি। সেটাই হয়তো অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী করেছিল তাদের। প্রথম গোল হজমের পর অবশ্য স্বাগতিকদের অঘটন ঘটার সুযোগ দেয়নি সাগরিকার ছোঁয়ায় স্বরূপে ফেরা বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত