কারফিউতে চেম্বার বন্ধ, সমস্যায় হাজার হাজার রোগী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৮ পিএম

রাজধানীর মিরপুর ১ এলাকার বাসিন্দা শহিদুল দুদিন ধরে অসুস্থ। ষাটোর্ধ শহিদুল ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন। প্রতি মাসেই তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। কিন্তু চলতি সপ্তাহে তিনি চিকিৎসক দেখাতে পারছেন না। গত শুক্রবার থেকে ল্যাব এইডে চেম্বার খোলা থাকবে কী না তার খবর নিয়েও কোনো সুখবর পাচ্ছেন না। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ কারফিউ শিথিল ছিল, ভাবছিলাম সকালে যদি ডাক্তার আসেন তাহলে যাব। কিন্তু আজও চেম্বারে বসেননি। ৬ মাস ধরে একই ডাক্তার দেখাচ্ছি। এখন নতুন কাউকে দেখাতেও পারছি না।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে সহিংসতা ও প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার রাত থেকে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ল্যাবএইড ছাড়াও রাজধানীর পপুলার হাসপাতাল, গ্রিনলাইফ হাসপাতাল, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল এবং স্কয়ার হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগীদের সিরিয়াল বাতিল করা হয়েছে। এতে শুধু সাইদুর রহমান নন, তার মতো আরও অনেক রোগীই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে পারেননি। দেশে কারফিউ জারীর পর থেকে চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ থাকায় প্রতিদিন এভাবেই সমস্যায় পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

আজ বুধবার থেকে কারফিউ শিথিল করে দিয়ে অফিস আদালত খুলে দেওয়া হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকায় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেণ্টার বিকেল ৫টা পর্যন্ত চালু থাকায় চিকিৎসকরা চেম্বার করেন। এতে রোগীরা উপকৃত হন। কিন্তু বিকেল থেকে কারফিউ থাকায় বৈকালিক চেম্বার বন্ধ রাখা হয়। এতে নানা রোগে আক্রান্ত রোগীরা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। 

একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তারা চেম্বারে বসছেন না। অপরদিকে চেম্বার খুললেও কারফিউ থাকার কারণে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসতে পারেন না। বুধবার সকাল থেকে যারা বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত তারা সেখানেই দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে যে রোগীরা চেম্বারের সেবা নিতে চান তাদের ভোগান্তি হচ্ছে। 

বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকরা চেম্বারে বসলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। রোগীদের দাবী প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যেনো চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় সেই বিষয়টি ভাবতে হবে।

দেশের প্রখ্যাত বক্ষব্যাধি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আলী হোসেন। তিনি রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখেন।

জানা গেছে, বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আলী হোসেন ল্যাবএইড হাসপাতালের প্রাইভেট চেম্বারে শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন ৩০ জন করে রোগী দেখেন। এজন্য আগের দিন ফোন করে সিরিয়াল নিতে হয়। কিন্তু তার সিরিয়াল পাওয়া খুবই কঠিন। সিরিয়াল দেওয়া শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যে তা শেষ হয়ে যায়। এ কারণে বহুদিন চেষ্টার পর ভাগ্য ভালো হলে তার সিরিয়াল পাওয়া যায়। সিরিয়াল বাতিল হওয়া রোগীরা পুনরায় সিরিয়াল পেতে সমস্যার কবলে পড়েছেন।


শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভ রিফাত আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এখানকার কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চেম্বার করছেন, আবার অনেক চিকিৎসক তাদের চেম্বার ক্যানসেল (বাতিল) করেছেন। যারা চেম্বার করছেন না তাদের সিরিয়াল দেওয়া রোগীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাদের সিরিয়াল বাতিল করা হয়েছে তাদের সিরিয়াল পরবর্তী তারিখে শিফট করে দেওয়া হচ্ছে।’ 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত