চলমান পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহের নিম্নআয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। ঘর থেকে বের হতে না পারায় অনেকের চুলায় আগুন জ্বলছে না। কারফিউ শিথিল হলে দু-এক ঘণ্টার জন্য ঘর থেকে বের হলেও কোনো কাজ মিলছে না। ফলে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে খালি হাতে ঘরে ফিরতে হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা গাঙ্গিনারপাড় মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায় অলস সময় পার করছেন পরেশ দাস। তার চোখেমুখে চিন্তার ভাঁজ। তিনি পেশায় একজন মুচি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে বসে জুতা সেলাই, কালি ও পুরাতন জুতা মেরামতের কাজ করে থাকেন।
কিন্তু কোটা আন্দোলন ও চলমান কারফিউর কারণে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তার আয়-রোজগার অনেক কমে গেছে। তার পরিবারে পাঁচজন সদস্য আছে। তিনি আয় করে চাল-ডাল কিনে নিয়ে গেলে বাড়িতে রান্না হয়। কিন্তু কারফিউর কারণে কাজ না থাকায় তার পরিবারের সবাই অর্ধাহারে-অনাহারে দিন পার করছে।
পরেশ দাস বলেন, ৪০ বছর ধরে এই কাজ করে সংসার চালিয়েছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। সারা দিন কাজ করে বাড়িতে যাওয়ার সময় চাল-ডাল নিয়ে যেতে পারি না।
নগরীর দুর্গাবাড়ী রোডে যাত্রীর জন্য দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক আলমগীর হোসেন বলেন, চলমান কারফিউ ও সহিংসতার ভয়ে প্রথম দুদিন রিকশা নিয়ে বের হইনি। রাস্তায় মানুষ বের হচ্ছে না। তাই আগের মতো ভাড়াও নেই। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৩৩০ টাকা আয় হয়েছে। পাঁচটা বাজলে আবার বাড়ি ফিরতে হবে। অন্য সময় সারা দিনে মহাজনের আমদানি বাদে ৪শ থেকে ৫শ থাকত। পরিস্থিতি এ রকম হলে কেমনে হবে? এসব চিন্তা করলেই মাথা ঘুরায়।
তিনি আরও বলেন, আমার মতো গরিব মানুষের তিনবেলা খাবারের জন্য হলেও তাড়াতাড়ি দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া দরকার।
