সহিংসতা দমন

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানা হয়েছে কি না জানতে চায় জাতিসংঘ

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৪, ০৩:১৫ এএম

কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরে গত সপ্তাহে সৃষ্ট ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা এবং তা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের নীতি ও মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত দ্রুত সময়ে জানানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান ভলকার তুর্ক।

গতকাল বৃহস্পতিবার জেনেভা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সরকারি নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও যুব আন্দোলনের বিক্ষোভে ১৭০ জনের বেশি মৃত্যুর খবর এসেছে। এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েনে। অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। এতে অন্তত দুই সাংবাদিক নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিরোধী দলের নেতাসহ শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অনুধাবন করেছি যে অনেক মানুষ সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত গোষ্ঠীর সহিংস আক্রমণের শিকার হয়েছেন এবং তাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কোনো প্রচেষ্টা করা হয়নি। তাই জনসাধারণের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য এবং এই সহিংসতা যাতে অন্যদিকে পরিচালিত না হয়, সেজন্য সংলাপের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা উচিত। আমি সরকারকে অনুরোধ করছি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের নিয়ম এবং মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত করুন।’

একই সঙ্গে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ভঙ্গ না করে এবং যদি করে তারা যেন দায়মুক্তি না পায়, সেই আহ্বানও করেছেন তিনি। এ ছাড়া সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে কিংবা ভিন্নমতের বিরুদ্ধে আরও দমন-পীড়নের দিকে নিয়ে যেতে পারে, এমন কোনো বিবৃতি বা কাজ এড়িয়ে চলতে সব রাজনৈতিক নেতার প্রতি আবেদন করেছেন তিনি।

সাংবাদিক এবং মিডিয়া আউটলেটসহ সবাইকে অবাধে এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতি রেখে যোগাযোগ করার স্বার্থে হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বাংলাদেশ সরকারকে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ পুনরুদ্ধার করার আহ্বান জানিয়েছেন। ভোঁতাব্যবস্থার মতো ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল, যা দেশের ওপর প্রভাব ফেলবে।

ইন্টারনেট শাটডাউনের কারণে জনসাধারণের পক্ষে বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে, যা তাদের দায়মুক্তি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করবে। সার্বিক বিষয় নিয়ে ভলকার তুর্ক বাংলাদেশ সরকারকে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত