মৌলভীবাজারে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়োগবঞ্চিত ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, শূন্যপদে নিয়োগের শর্তাবলী লঙ্ঘন করে প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে যোগ্য প্রার্থী হয়েও চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অনেকে। নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনাও চলছে। নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে জেলার বড়লেখা, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার নিয়োগবঞ্চিত বেশ কয়েকজন সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি তারা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জেলার ৭ উপজেলার ৯৩টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সহকারীর পদে নিয়োগের লক্ষ্যে ৭ জুন জেলা সদরে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১১, ১২ ও ১৩ জুন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।
নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, নিয়োগের শর্তে বলা হয়- স্বাস্থ্য সহকারী পদে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট (পুরাতন) ওয়ার্ডের বাসিন্দা হতে হবে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না পেলে একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের সাবেক ৩ নম্বর ওয়ার্ডে যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা পুষ্পিতা চক্রবর্তী নামে একজনকে স্বাস্থ্য সহকারী পদে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কমিটি।
এতে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন নিয়োগবঞ্চিত রুপন চন্দ্র দাস, দেবান্তোষ দাস, স্বরুপ দাস ও অয়ন চন্দ্র দাস। একই উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের সাবেক ৩ নম্বর ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন নিয়োগবঞ্চিত মো. ছাইদুল ইসলাম, শ্রীকান্ত পাল ও টিটুল বিশ্বাস।
বর্ণি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক বাসিন্দা নিয়োগবঞ্চিত রুপন চন্দ্র দাস, দেবান্তোষ দাস, স্বরুপ দাস ও অয়ন চন্দ্র দাস বলেন, এই নিয়োগ বিধি অনুযায়ী হয়নি। কারণ বর্ণি ইউনিয়নের সাবেক ৩ নম্বর ওয়ার্ডে যিনি স্বাস্থ্য সহকারী পদে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেয়েছেন, তার বাড়ি আমাদের ওয়ার্ডে নয়।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, পুষ্পিতা চক্রবর্তীর বাড়ি রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রামে। বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ভোটার তালিকায় পুষ্পিতার কোনো নাম নেই। কিন্তু পুষ্পিতা চক্রবর্তী তার প্রকৃত ঠিকানার তথ্য গোপন করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রতারণা করে বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের সাবেক ৩নং ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সহকারী শূন্য পদে আবেদন করে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। এমনকি ভবিষ্যতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য পুষ্পিতা ভোটার এলাকা রাজনগর উপজেলা থেকে বড়লেখা উপজেলায় স্থানান্তর করে নিয়েছেন।
তবে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত পুষ্পিতা চক্রবর্তীর বাবা ধনেষ চক্রবর্তী বলছেন, তার মেয়ে বর্ণি ইউনিয়নের বর্তমান ৮ নং (সাবেক ৩নং) ওয়ার্ডের ভোটার। তার জন্মসনদসহ সব প্রমাণপত্র আছে।
উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক বাসিন্দা নিয়োগবঞ্চিত মো. ছাইদুল ইসলাম, শ্রীকান্ত পাল ও টিটুল বিশ্বাস বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত মাছুমা আক্তার ছামিয়া উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অথচ তিনি প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিক সনদপত্রে নিজেকে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উল্লেখ করেছেন। যার কারণে তারা যোগ্য প্রার্থী হয়েও চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দীন মুর্শেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগের জন্য মাত্র সুপারিশ করা হয়েছে। এখানও নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি। শর্তাবলী নিয়ে ১০টি অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট আসার পর চূড়ান্ত পর্যায়ে তা খতিয়ে দেখা হবে।
বড় কাজের টেন্ডার এলেই ঠিকাদার বনে যান নির্বাহী প্রকৌশলী
মরক্কোর কাছে হারের আগে আর্জেন্টিনা দলে চুরি
আন্দোলনে না থেকেও অধিকাংশ মামলার আসামি হচ্ছেন তারা