নরসিংদী কারাগারে হামলা

পালিয়ে যাওয়া আরও এক জঙ্গিসহ গ্রেপ্তার ১৮৪

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৪, ০৯:১৮ পিএম

নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে ৮২৬ আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আরও এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে কারাগারে হামলা ও পৃথক ঘটনায় করা ১১ মামলায় ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। আর পালিয়ে যাওয়া ৯ জঙ্গির মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার জনকে।

বৃহস্পতিবার জুয়েল ভূঁইয়া (২৬) নামের এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। গাজীপুরের কাপাশিয়া উপজেলার বরুয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ঢাকা থেকে জঙ্গি সংগঠনের দুই নারী সদস্যকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, একজনকে নারায়ণঞ্জের সোনারগাঁও থেকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে।

আজ শুক্রবার সকালে নরসিংদীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গি জুয়েল ভূঁইয়া নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কাজিরচর গ্রামের মো. আবুল ভূঁইয়ার ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কোটা আন্দোলন ঘিরে গত ১৯ জুলাই (শুক্রবার) বিকেলে নরসিংদীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনা ঘটে। আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার নাশকতাকারী ভেলানগর মোড় ও উপজেলা পরিষদের মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়ে দুইদিক থেকে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। তারা আগ্নেয়াস্ত্র, দা, চাপাতি, ককটেল, ইট, হাতুড়ি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দিকে এগুতে থাকে। পরে নাশকতাকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলি শুরু হয়। পরে নাশকতাকারীরা বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা কারাগারে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, অস্ত্র ও গুলি লুট করে ৯ জঙ্গিসহ ৮২৬ আসামি ছেড়ে দেয়। এসময় তারা লুটকৃত অস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপর আক্রমণ করে। সাড়ে তিনঘন্টার গোলাগুলির পর রাত সাড়ে ১০টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুলিশ সুপার বলেন, এই আক্রমণ কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, তারা কারাগার, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, জেলা পরিষদ, পুলিশ ফাঁড়িসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদেও ওপর আক্রমণ করেছে। এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ। রাষ্ট্রীয় সম্পদগুলো ধ্বংস করে এলাকার মানুষের ক্ষতি করেছে। পুলিশ ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ও বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি জানান, নরসিংদী কারাগার থেকে ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও আনুমানিক ৭ হাজার গুলি লুট হয়। এর মধ্যে ২০টি চায়না রাইফেল, ১৫টি রাইফেল ও ১০টি শর্টগান ছিল। এ পর্যন্ত ৪৫টি অস্ত্র , ১ হাজার ৯১টি গুলি, ২২৭টি গুলির খোসা, ২০টি ম্যাগাজিন ও ১০টি হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়েছে।

পাশাপাশি কারাগারে হামলার ঘটনায় দুইটি মামলাসহ পৃথক ১১টি মামলায় ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর লুটকৃত অস্ত্রের সন্ধান দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। তাছাড়া এই পর্যন্ত আইনজীবী সমিতি এবং জেলা পুলিশের সহায়তায় পালিয়ে যাওয়া ৪৮১ জন কয়েদী আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের গাজীপুরের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, সংঘাতে পুলিশের ৪ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। মোট আহত হয়েছেন ৩৩ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত