সরকারকে পদত্যাগের বার্তা দিয়েছে জনগণ: মির্জা ফখরুল

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫৯ পিএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর বলেছেন, সরকার জনরোষে পড়ার ভয়ে জোর করে ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে কারফিউ দিয়ে সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছে। জনগণকে কর্মহীন রেখে অনাহারে দিনাতিপাত করতে বাধ্য করছে। দ্রব্যমূল্য দিন দিন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে জাতি দ্রুত মুক্তি চায়। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সমাধান।

আজ শনিবার বিকেলে দলের সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ ১৭ বছর যাবত পৈশাচিক নির্যাতন, খুন, গুম, হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে সরকারের ওপর বিক্ষুব্ধ। তারা সুযোগ পেলেই নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময় মাঠে নেমে সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছে। সরকারকে বার্তা দিয়েছে পদত্যাগের। আইন-শৃঙ্খলার বাহিনী বলছে হেলিকপ্টারে থেকে গুলি করা হয়নি। তাহলে দেশবাসীর প্রশ্ন, জানালা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় শিশু সামির কিভাবে নিহত হলো? ছাত্রদের গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়ার পর তাদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়া ও মায়া কান্না এবং সাহায্যের কথা বলা জনগণকে প্রতারণার আর একটি নজির। সরকারকে বলব, সকল হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করে দেশ এবং দেশের মানুষকে অভিশাপ থেকে মুক্তি দিন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল হক নুরুকে আদালতে রিমান্ড শেষে নিয়ে আসার সময় যে গণমাধ্যমে যে চিত্র এসেছে তা যে কোনও বিবেকবান মানুষকে আলোড়িত করবে। সরকার মধ্যযুগীয় নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। কোটা আন্দোলনের অন্যতম তিন সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তুলে নিয়ে গিয়েছে। এই ধরনের বর্বরোচিত অমানবিক কাজ পুরো সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।

তিনি বলেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খানকে গত ২৫ জুলাই গভীর রাতে তার মগবাজারস্থ বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গ্রেপ্তার করে এবং রাতভর নির্যাতন চালায়। তাকে মেট্রোরেল পোড়ানোর বানোয়াট মামলায় জড়িয়ে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। কয়েকদিন পূর্বে গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশ ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নয়াব আলীর একটি চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমান, জহিরউদ্দিন স্বপন, রুহুল কবির রিজভী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জন জাতীয় নেতা ও অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারান্তরীণ করা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুক্রবার যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের বাসায় তল্লাশি করে তাকে না পেয়ে তার ভায়রা, শ্যালক ও শ্যালকের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ অসংখ্য মানুষের বাড়ি বাড়ি ডিবি পুলিশ তল্লাশি করছে। সরকার ক্ষমতা আগলে রাখতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে মসনদ ধরে রেখেছে।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক নির্যাতন ও গণহত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চেহারার বীভৎস রূপ তা ফুটে উঠেছে। সরকারি বাহিনীর হাতে মাত্র এক সপ্তাহে চার সাংবাদিক হত্যা এবং দুই শতাধিক সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিক নেতা সাঈদ খানকে গ্রেপ্তারে সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের একটি কু-নজির। এই সরকারের আমলে ৬৬ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন শত শত সাংবাদিক। প্রাণ বাঁচাতে দেশান্তরিত হয়েছেন অনেকে। সম্পাদক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে একটা ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। অন্তহীন ক্ষমতালিপ্সার জন্য এরা প্রতিবাদী সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে বেপরোয়া। তাই সাংবাদিক, নির্ভিক লেখক ও অকুতোভয় গণতন্ত্রকামী বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের খেলায় বেপরোয়া। সরকারকে এই ভয়ঙ্কর গ্রেপ্তার খেলা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত