বাবাকে অবসর নেওয়ার কথা বলে চির অবসরে রিজভী

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৪, ০৮:৪৭ পিএম

‘রিজভীর স্বপ্ন ছিল চাকরি করবে। পরিবারের হাল ধরবে। প্রায়ই সে বলতো আমাকে অবসর দেবে, এখন আমার ছেলে নিজেই চির অবসরে চলে গেল।’ এই কথাগুলো বলছিলেন গত ১৮ জুলাই গুলিতে নিহত মাহমুদুল হাসান রিজভীর (২০) বাবা জামাল উদ্দিন। তিনি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত।

মাহমুদুল হাসান রিজভীর বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর কৈলাশ এলাকায়। তার বাবা মা ও ভাই বোন বসবাস করেন নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর বার্লিংটন এলাকায়। নিহত রিজভীর নানার বাড়ি হাতিয়া উপজেলার হরণীচানন্দী ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে। সেখানেই তার লাশ গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় দাফন করা হয়।

স্বজনরা জানান, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যার দিকে মেসের চার বন্ধুকে নিয়ে নাশতা করতে বের হয়েছিলেন। উত্তরা এলাকার রাজলক্ষ্মীর দিকে যেতেই হঠাৎ গুলির শব্দ আসতে শুরু করে। এসময় বন্ধুরাসহ আত্মরক্ষায় পালানোর চেষ্টা করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি গুলি লাগে রিজভীর মাথায়। পরে তাকে আহত অবস্থায় স্থানীয় ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যায় তার বন্ধুরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

রিজভী নোয়াখালী জেলা শহরের পৌর কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। সেই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ম. পানাউল্যাহ জানান, রিজভী ছিল কমার্সের ছাত্র। ২০২০ সালে এসএসসি পাস করে। এরপর লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিট থেকে ডিপ্লোমা শেষে ঢাকার উত্তরায় একটি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করছিল। তার এমন মৃত্যুর সংবাদে মর্মাহত হয়েছি।

রিজভীর মামা মো. আজিজুর রহমান বলেন, ১৮ জুলাই দুপুরে তার মায়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। কথা বলার কয়েক ঘণ্টা না যেতেই ভাগনের অসুস্থতার খবর আসে। এরপর আমি, তার মা বাবা ও অন্য ভাগনেদের নিয়ে ঢাকায় চলে যাই। ঢাকায় গিয়ে দেখি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভাগনের নিথর দেহ পড়ে আছে।

তিনি বলেন, চলতি মাসের ২ জুলাই তার মা ফরিদা ইয়াসমিন ঢাকায় একটি মেসে তুলে দিয়ে আসেন। মেসে তিন সহপাঠীসহ থাকতো রিজভী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত