কাজ ফেলে পালিয়েছেন ঠিকাদার

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৪, ১২:৫৯ এএম

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার বিত্তিপাড়া হাট-জামজামী ভায়া ঝাউদিয়া সড়কের কুমার নদের ওপর গার্ডার ব্রিজটির নির্মাণকাজ ৪ বছরেও শেষ হয়নি। ৬ কোটি টাকা বরাদ্দের এ সেতুর কাজ সম্পন্ন না করেই লাপাত্ত ঠিকাদার। ফলে গত ৪ বছর ধরে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ।

প্রকল্প ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের মার্চে শুরু হওয়া ৮১ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটির কাজ দুবছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় ঝুলে গেছে প্রকল্পটি। এতে কয়েক লাখ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি হরিণাকুন্ডু ও আলমডাঙ্গা উপজেলার সঙ্গে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একমাত্র সংযোগ সড়টিতে যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলজিইডি ও ঠিকাদারের গাফিলতিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্রিজটির নির্মাণ সম্পন্নের দাবি স্থানীয়দের। তবে অভিযোগ নাকচ করে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, খুব শিগগিরই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে জনগণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ ও কৃষিপণ্য বহন করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে স্বাভাবিক চলাচলের রাস্তাটিও মেরামতের দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা জরিনা খাতুন (৫৫) বলেন, ‘সেই ৪ বছর আগে শুরু হয়েছে এই কাম। এতদিন সহ্য কইরি ছিলাম যে কাম শ্যাষ হলিই তো আবার সব ঠিক হয়ে যাবিনি। কিন্তু একন দেখতিচি এডি আমাগো গলার কাড়া হয়ে গেছে।’

উজানগ্রাম এলাকার বাসিন্দা কৃষক রব্বানী প্রামাণিক (৬০) বলেন, ‘গা গ্রামের মানুষের কষ্ট দ্যাকার কেউ নেই গো। এই যে গাংয়ের ওপর ব্রিজটা আইজ ৪ বছর ধরি শেষ করতি পারতেছে না। কী এর সমস্যা আর কিইবা তার সুমাধান হবি তা কিডা দেকপি কও? আমরা মাঠ-ঘাটের ফসল আনতি কত কষ্ট কত্তি হচ্ছে, কষ্টডা তো আমরাই পাচ্ছি।’

ভ্যানচালক নশের আলী বলেন, ‘কাম কত্তি কত্তি অদ্দেক কইরি ফ্যালা থুয়ে চইলি গেছে। এতদিন ধইরি আমারে ভুগান্তিই যাচ্চে না। ব্রিজটা হয়ে গেলি আমরা বাঁচি।’

কুষ্টিয়া জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সদস্য গোলাম মহসিন বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পগুলো নানা অনিয়ম-অবহেলায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে এক দিকে বাড়ছে ব্যয়, অন্যদিকে স্বভাবিক চলাচল ব্যাহতের পাশাপাশি দীর্ঘ হচ্ছে ভোগান্তি।’

সচেতন নাগরিক কমিটি সনাকের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু বলেন, ‘এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতার প্রমাণ থাকলে অবশ্যই তার জবাবদিহিতাসহ শাস্তি হওয়া উচিত। টেকসই উন্নয়ন অভিযাত্রা বাস্তবায়নে সরকারের অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার পরও কেন এমন জনভোগান্তি হবে সে প্রশ্ন আমারও।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর এলজিইডি কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘উজানগ্রাম-ঝাউদিয়া সড়কের কুমার নদীর ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজটির নির্মাণকাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। তবে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা শেষ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত