বায়েজিদে সন্ত্রাসী আনোয়ারের দাপট কমবে কবে?

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৮ পিএম

নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি আনোয়ার হোসেন ওরফে সোর্স আনোয়ার নামে এক সন্ত্রাসী ও তার সঙ্গীদের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছেন বায়েজিদ বোস্তামি থানার ডেবারপাড়, চন্দ্রনগর ও বাংলাবাজার এলাকার বিপুল সংখ্যক বাসিন্দা। হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ভূমি দস্যূতার অভিযোগে দায়ের হওয়া অন্তত ১৫ মামলার আসামি আনোয়ারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি থানায় জিডি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
 
একসময় পুলিশের সোর্স ছিলেন আনোয়ার। তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি সঞ্জয় কুমার সিনহা। তিনি বলেন, ‘সপ্তাহ দুয়েক আগে কিছু লোক থানায় এসে আনোয়ারের বিরুদ্ধে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দিয়েছেন।’

পুলিশ জানায়, ২০২০ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১৯ বছর বয়সী এক পোশাক শ্রমিক তার খালার বাসা থেকে ডেবার পাড় নিজ বাসায় ফিরছিলেন। ফেরার পথে আনোয়ার ও তার সহযোগী হেলাল ওই তরুণীকে স্থানীয় ফরেস্ট বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যান।
 
খবর পেয়ে পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে ভর্তি করে। ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগী তরুণীর মা পাখী বেগম বাদী হয়ে বায়েজিদ থানায় আনোয়ার ও হেলালকে আসামি করে মামলা করেন। একই রাতে বাদী শনাক্ত করলে আনোয়ারকে তার ডেবার পাড়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে সহযোগী হেলালকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ধর্ষণের মামলা তদন্ত শেষে আনোয়ার ও তার সহযোগী হেলালকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা বায়েজিদ থানার সাবেক উপপরিদর্শক নূর নবী। ধর্ষণের গ্রেপ্তারের ৬/৭ মাস পরে জামিনে মুক্তি পান আনোয়ার। কারাগার থেকে বের হয়েই মামলা তুলে নিতে মা ও মেয়েকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করে পাখী বেগম বলেন, ‘আনোয়ারের প্রাণনাশের হুমকিতে থানায় জিডি করলেও আমরা মা-মেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি’।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আনোয়ারের ঘনিষ্ট সহযোগী তার আপন ভাগিনা মো. বাবলু, একাধিক মামলার আসামি মোস্তফা কামাল পাশা, জামাল, নুর ইসলামসহ ৭/৮ জন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আনোয়ার ও তার ঘনিষ্ট সহযোগীরা এলাকায় ১৪-১৫ জনের একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন। নগরের অক্সিজেন এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন আনোয়ার ও তার সহযোগীরা।

আনোয়ারকে শীর্ষ সন্ত্রাসী উল্লেখ করে ডেবারপাড় এলাকার আলমগীর হোসেন নামে এক দোকানি মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। ছোটখাটো ব্যবসা করে সংসার চালাই। আনোয়ার ও তার লোকজন বলে ব্যবসা করতে হলে তাকে চাঁদা দিতে হবে। কয়েকবছর আগে একটি ভবনে পাইপ ফিটিংয়ের কাজ পেলে আনোয়ার ওই ভবন মালিকের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন।’

সপ্তাহখানেক আগে বাংলাবাজার এলাকার জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন আনোয়ারের সহযোগী মোস্তফা কামাল পাশা। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছেন জানিয়ে জসিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি আনোয়ার ও তার লোকজনের ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আমাকে তারা মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিজেকে চট্টগ্রাম মহানগর হকার্স লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে দাবি করে আনোয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। আমার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের লোক ষড়যন্ত্রমূলক বিভিন্ন মামলা দিয়েছেন।’

মিরাজ হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ আপনাকে চার্জশিটভুক্ত আসামি করেছেন, এসবও কি বিএনপি-জামায়াত করেছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে আনোয়ার বলেন, ‘মামলাগুলোয় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। এলাকায় চাঁদাবাজি, মাস্তানি করা, ধর্ষণের মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ মিথ্যা।’

প্রসঙ্গত, পুলিশের কথিত সোর্স আনোয়ার ২০১২ সালে বায়েজিদ এলাকায় সংঘটিত মিরাজ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত এক নম্বর আসামি। বছর দেড়েক আগে নগর পুলিশের করা ৩২৩ সন্ত্রাসীর তালিকায় আছে আনোয়ারের নাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত