চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড়ের কদম মোবারক এলাকায় গতকাল সোমবার বিকেল চারটার দিকে লাঠিপেটা করার পর কাঁদানে গ্যাসের শেল ও দুটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সেখানে সেনা ও বিজিবিও মোতায়েন ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার বর্ণনা এভাবে দিলেও ওই ঘটনায় গতকাল রাতে নগরের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে পুলিশ বলছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরাই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এতে আহত হন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য এসআই মোশাররফ হোসেন।
কিন্তু এই ঘটনার একাধিক ভিডিও, সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের ছোড়া সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণের পর আহত এসআই মোশাররফ। তবে বুধবার রাতে দেশ রূপান্তরের কাছে কোতোয়ালি থানার ওসি এস এম ওবায়দুল হকের দাবি, সাউন্ড গ্রেনেড নয়, ককটেল বিস্ফোরণেই পুলিশ সদস্য এসআই মোশাররফ আহত হয়েছেন।
এর আগে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা চেরাগীর মোড়ের এক পাশে সড়কের ওপর বসে স্লোগান দেন। প্রায় ১৫ মিনিট বসে থাকার পর তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুটি সাউন্ড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। এরপর লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।
এ ঘটনার দিন সোমবার রাতে কোতোয়ালি থানার এসআই নয়ন বড়ুয়া বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। এর মধ্যে এক কিশোরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিশে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এ সময় কর্তব্যরত এসআই মোশাররফ হোসাইন গুরুতর জখম হন। আহত হন এসআই মেহেদী হাসান, কনস্টেবল আবু রায়হানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য।
আহত কোতোয়ালি থানার পুলিশ কনস্টেবল আবু রায়হান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কয়েকজন সামনের দিকে ছিলাম। ধোঁয়া দেখি, সামান্য আহত হই। পেছনে পুলিশ সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা ছিলেন।’ কী ছুড়ে মারা হয়েছিল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাউন্ড গ্রেনেড নাকি ককটেল বুঝতে পারিনি। কে মেরেছে, তা–ও জানি না।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কদম মোবারক এলাকায় ঘটনার একাধিক ব্যবসায়ী গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, পুলিশ পরপর দুটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে মারতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা আহত হন। ককটেল হলে আশপাশে থাকা গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা আহত বেশি হতেন।
