সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তাল সময়ে সিলেটে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) এবং পদধারী শীর্ষ নেতাদের ভূমিকায় খুশি নন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ-অসন্তোষ। দলের নিবেদিতপ্রাণ একাধিক কর্মীর সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলেন, দলের ক্ষমতাকালে ১৬ বছরে বিভিন্ন সুবিধাভোগী সিলেটের ‘বড়’ নেতারা কঠিন সময়ে কেমন যেন চুপসে যান। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির লাগাতার আন্দোলনের সময়ও এমনটি দেখা গেছে। সর্বশেষ কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘাত-সহিংসতার সময়েও একই চিত্র দেখা গেছে। তবে মাঠে সক্রিয় ছিলেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের ৫টিতে বর্তমানে আওয়ামী লীগের এমপি রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। নেতাকর্মীরা জানান, কোটা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তিনি ৩ দিন সিলেটে ছিলেন। তবে ওই সময় তিনি মূলত তার নির্বাচনী এলাকার কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। একইভাবে সিলেট-৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব ছিলেন তার নির্বাচনী এলাকায়। জেলার আওয়ামী লীগ দলীয় অন্য ৩ এমপির মধ্যে সিলেট-১ আসনের এমপি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ছিলেন বিদেশে। গত ২৮ জুলাই তিনি দেশে ফিরলেও এখনো সিলেটে আসেননি। সিলেট-৪ আসনের এমপি সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমদ ও সিলেট-৬ আসনের এমপি সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঢাকায় থাকলেও কঠিন সময়ে সিলেটে তাদের দেখা পাওয়া যায়নি।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সিলেটে থাকলেও রাজপথে মূলত তাদের দুদিন দেখা গেছে। ১৮ জুলাই কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ মিছিল-সমাবেশ করে। এ ছাড়া নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করেছিল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সিলেটে বিএনপি-জামায়াত ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। ১৮ ও ১৯ জুলাই শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ফটক থেকে নগরের আখালিয়া, মদিনা মার্কেট, সুবিদবাজার এবং নগরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার এলাকা মূলত তাদের দখলে ছিল। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে কারফিউ জারির আগ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত এ অবস্থান ধরে রেখেছিল। কিন্তু ওই সময় আওয়ামী লীগকে মাঠে দেখা যায়নি।এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা সারা দেশের মতো সিলেটেও নির্বিচারে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসে বিশ্বাসী নয়, তাই রাজনৈতিকভাবেই সিলেটে তাদের মোকাবিলা করা হচ্ছে। সিলেটের আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে সেই কাজ করে যাচ্ছে।’
