শিক্ষকদের পাশে না পেয়ে বেরোবি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪, ০২:৫৮ পিএম

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চলমান পরিস্থিতিতে তাদের শিক্ষকদের পাশে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সারা দেশে কোটা আন্দোলনকে ঘিরে যে আন্দোলন বিক্ষোভ চলছে তাতে বর্তমানে একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাবি, জাবি, রাবিসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

তবে এই কোটা আন্দোলনে প্রথম নিহত হয়েছেন আবু সাঈদ। তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তবুও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশে না পেয়ে হতাশ হয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শুধু পাশে না তাদের থেকে কোনো ধরনের আশ্বস্তমূলক বক্তব্য কিংবা ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা তাদের সংগঠন থেকে কোনো বিবৃতি না পেয়ে অনেকটাই আশাহত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বারবার শিক্ষকদের তাদের পাশে থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে বিভিন্নভাবে, কখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পোস্ট দিয়ে কিংবা কখনও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সাথে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তুলনা করে। তবে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কিংবা শিক্ষক সমিতি থেকে এখনও তেমন কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। 

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশে না পেয়ে তারা বিভিন্নভাবে শিক্ষকদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা সমালোচনা তুলছেন। তারা বলছেন, সামান্য অন্যায়ের বিরুদ্ধেও যারা এত বড় বড় প্রতিবাদ করেছেন তারা কীভাবে শিক্ষার্থী মৃত্যুর পরও চুপ হয়ে বসে আছেন? ক্লাসে ১ মিনিট লেট করে আসলে এটেনডেন্স না দেয়া কিংবা ক্লাসে ঢুকতে না দেয়া শিক্ষকরা আজ এত বড় অন্যায়ে কীভাবে চুপ রয়েছেন, যেখানে আবু সাঈদের মৃত্যু স্পষ্টভাবে পুলিশের গুলিতে হয়েছে সেখানে পুলিশ শিক্ষার্থীদেরই অপরাধী করেছে। এ রকম অন্যায় তারা কীভাবে সহ্য করছেন?

শিক্ষার্থীরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সারা দেশে এমন হত্যাকাণ্ডের পর এবং আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আসামি করে মামলা করার পর আমরা কতটা আতঙ্কে আছি তা আমরাই বুঝি। শিক্ষকদের কোনো বিষয়ে আমরা তাদের পাশে থেকেছি নয়তো তারা কোনো না কোনোভাবে আমাদের ব্যবহার করেছেন। অথচ আজকে আমাদের এত বড় সংকটে, আমাদের সাথে অন্যায় হওয়ার পরও তারা আমাদের পাশে দাঁড়ানো তো দূরে থাক খোঁজ খবরও তেমন নিচ্ছে না। আমরা এই সংকটকালীন সময়ে আমাদের শিক্ষকদের পাশে চাই যেমন ঢাল হয়ে দায়িয়েছেন আসিফ নজরুল স্যার, সলিমুল্লাহ খান স্যারেরা।’

শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষকও ইতিমধ্যে তাদের ফেসবুক পোস্টে নিজেদের অপারগতার বিষয় তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিহত আহতদের ঘটনায় বিচার চেয়েছেন, নিপীড়ন বন্ধ চেয়েছেন।

 তবে শিক্ষার্থীরা যেভাবে চাচ্ছেন সেভাবে কেন তারা আসছেন এসব নিয়ে জানতে চাইলে বেশ কয়েকজন শিক্ষকই নিজেদের শিক্ষক সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি-সম্পাদকের সাথে যোগাযোগের কথা বলেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি বিজন মোহন চাকী বলেন, ‘প্রশাসন সব সময়ই শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে। তারা ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন কেউ কেউ হয়রানির শিকার হলে প্রক্টরকে জানানোর আহ্বান করেছে। শিক্ষার্থীরা যে কেন মনে করে শিক্ষকরা তাদের পাশে নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবু সাঈদের ঘটনা একটি জাতীয় ইস্যু। শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক হলে আমার বিশ্বাস কখনই এ রকম হতো না।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি আরো বলেন, আমরা আবু সাঈদের মৃত্যুর বিষয়ে এফ আই আরের ঘটনার প্রতিবাদে একটি বিবৃতি প্রকাশ করবো এবং তার সুষ্ঠু তদন্ত চাইবো।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদ মন্ডল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সবসময়ই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের মামলার এফ আই আরের প্রতিবাদে আজকে বিবৃতি প্রকাশ করবো এবং আগামী রবিবার আমরা আবু সাঈদ মৃত্যু ও সারা দেশে যে হত্যাকাণ্ড তার বিষয়ে মৌন মিছিল করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত