প্যারিস অলিম্পিকের জিমন্যাস্টিকসের দলগত ইভেন্টে স্বর্ণ জিতে প্রত্যাবর্তনটা আগেই রাঙিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিমোন বাইলস। এবার ব্যক্তিগত ইভেন্টেও স্বর্ণ জিতলেন তিনি। বাইলস আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসে নারীদের অল-অ্যারাউন্ডে জিতলেন স্বর্ণ। প্যারিস অলিম্পিকে দ্বিতীয় স্বর্ণ জয়ে বুঝিয়ে দিলেন তিনিই সেরা। এটি ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’খ্যাত অলিম্পিকে তার নবম পদক; যার মধ্যে স্বর্ণ ছয়টি।
অল-অ্যারাউন্ডে এটি তার দ্বিতীয় স্বর্ণ। বিশে^র তৃতীয় জিমন্যাস্ট হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন বাইলস। এই ইভেন্টে আছে চারটি রাউন্ড ভল্ট, আনইভেন বারস, ব্যালেন্স বিম ও ফ্লোর এক্সারসাইজ। ভোল্টে ১৫.৭৬৬ স্কোর করেন। আনইভেনে বারসে বাইলস স্কোর করেন ১৩.৭৩৩। ব্যালেন্স বিমে ১৪.৫৬৬ করেন বাইলস। ফ্লোর এক্সারসাইজে ১৫.০৬৬ স্কোর করেন তিনি। বিমে দ্বিতীয় প্রচেষ্টার পর ব্রাজিলের রেবেকা আনদ্রাদের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। তবে ১০ সেন্টিমিটার ওয়াইড অ্যাপারাটাসে দারুণভাবে কামব্যাক করেন। তাতে সর্বোচ্চ স্কোর হয় বাইলসের। ফ্লোর এক্সারসাইজের পর বাইলসের মোট স্কোর হয় ৫৯.১৩১।
দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন ব্রাজিলের রেবেকা আনদ্রাদে। তার থেকে বাইলস এগিয়ে ১.১৯৯ স্কোরে। রেবেকা ১৪.০৩৩ স্কোর নিয়ে রুপা জেতেন। তৃতীয় স্থানে থাকা সতীর্থ লি সুনিসার থেকে ২.৬৬৬ স্কোরে এগিয়ে শেষ করেন বাইলস। ৫৬.৪৬৫ স্কোরে ব্রোঞ্জ পদক পান টোকিওতে এই ইভেন্টে স্বর্ণ জেতা সুনিসা।
আট বছর আগে রিও অলিম্পিকে চারটি স্বর্ণ জিতেছিলেন বাইলস। সেই সময় তার বয়স ছিল ১৯ বছর। দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রতিযোগী ছিলেন। ২০২১ টোকিও অলিম্পিকে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বাইলস। তবু একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন। অলিম্পিক চলাকালে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন নিজের নাম।
এবারের অলিম্পিকে বাইলস নেমেছেন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে। বুঝিয়ে দিতে, জিমন্যাস্টিকসের দুনিয়ায় তিনিই সর্বকালের সেরা। সে পথে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন বাইলস। তাই স্বর্ণ জয়ের পর নিজেই পরেন একটি নেকলেস। তাতে রয়েছে ছাগলের আকৃতির লকেট। বুঝিয়ে দিলেন তিনিই ‘জিওএটি’গোট, অর্থাৎ ‘গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’ সর্বকালের সেরা।
লকেটটি নিয়ে বাইলস বলেন, ‘এটি ছোট, তবে অনেক সুন্দর। বহু মানুষ এটা পছন্দ করেন। তারা সব সময় আমাকে গোট বলে ডাকে। তাই আমি ভেবেছিলাম এমন কিছু যদি করতে পারি, এটা গলায় জড়াব। অনেকে হয়তো এটি পছন্দ করবে না, তবে আমি এটি পছন্দ করি।’
আবারও হারানো সিংহাসন ফিরে পাওয়া নিয়ে বাইলস বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে বিশ্ব পেয়ে গেছি। আমি নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত। তিন বছর ধরে যে মানসিক ও শারীরিক লড়াই করেছি, সেটির ফল পেলাম।’
এবার অল-অ্যারাউন্ড জিমন্যাস্টিকস ইভেন্ট ঐতিহাসিকও বটে। কারণ এবারই প্রথম নারী অল-অ্যারাউন্ড ফাইনালে একসঙ্গে প্রতিযোগিতা করেন অলিম্পিকের এই ইভেন্টে স্বর্ণজয়ী দুজন। টোকিও অলিম্পিকে অল-অ্যারাউন্ডে স্বর্ণ জিতেছিলেন লি সুনিসা।
অলিম্পিকে প্রথমের পর দ্বিতীয়বার অল-অ্যারাউন্ডে স্বর্ণ জিততে বাইলসের লেগে গেল ৮ বছর। এর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের লারিসা লাতিনিনা অল-অ্যারাউন্ডে ১৯৫৬ ও ১৯৬০ আসরে স্বর্ণ জেতেন। চেকোস্লোভাকিয়ার ভেরা চাসলাভাস্কা ১৯৬৪ ও ১৯৬৮ আসরে ওই ইভেন্টে সেরা সাফল্য পান। ৫৬ বছর পর তাদের পাশে নাম লেখালেন বাইলস। ২৭ বছরের বাইলস দ্বিতীয় বয়স্ক নারী হিসেবে অল-অ্যারাউন্ড জিমন্যাস্টিকসে স্বর্ণ জিতেছেন। এর আগে ১৯৫২ সালে ৩০ বছর বয়সে স্বর্ণ জিতেছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের মারিয়া।
