তৃতীয় পক্ষ শিক্ষার্থীদের বিপথে পরিচালনা করছে : ঢাবি নীল দল

৫ দফার স্মারকলিপি পেশ

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৪, ০৩:১৩ এএম

শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে বিপথে পরিচালনা করে তৃতীয় পক্ষ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বলে মনে করে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নীল দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে নীল দলের শিক্ষক নেতারা এ মন্তব্য করেন। এ সময় তারা ঢাবি উপাচার্যের কাছে ৫ দফা দাবি জানান।

মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া তার বক্তব্যে বলেন, তারা সবসময় কোটার যৌক্তিক সমাধান চেয়েছেন। তবে তৃতীয় পক্ষ শিক্ষার্থীদের বিপথে পরিচালনা করে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু তৃতীয় পক্ষ তাদের বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে। তারপর অনুপ্রবেশকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বিপথে পরিচালিত করে হল দখল, রুম ভাঙচুর, শিক্ষকদের হামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা লাশ ফেলার চেষ্টা করেছে।

বোরকা পরে অপশক্তি রোকেয়া হলে ঢুকেছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, তারা রোকেয়া হলের প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করেছিল, শিক্ষার্থীদের গায়ে হামলা করেছিল। মুখোশ পরে, বোরকা পরে তারা রোকেয়া হলে প্রবেশ করেছিল। এই যে অপশক্তির এই অপকর্ম করেছিল আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ দেব, কারণ তারা জাতিকে আরেকটা শিক্ষা দিল এবং ইতিহাসের একটি অংশ হলো। শিক্ষার্থীরা দেখিয়েছে, কীভাবে নিরস্ত্র উপায়ে দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ন্যায়সংগত যৌক্তিক অধিকার আদায় করতে হয়। এখন যে সংকট এটি জাতীয় সংকট, এটি কোনো অ্যাকাডেমিক সংকট না। এই সংকট তৈরি হয়েছে কিছু রাজনৈতিক স্থবিরতার কারণে। এই সংকটের সমাধান করা প্রয়োজন।’

এরপর শিক্ষকরা মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্য ঘুরে ৫ দফা দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামালের কার্যালয়ে গিয়ে তার হাতে স্মারকলিপি দেন। এর আগে সমাবেশে স্মারকলিপিটি পড়ে শোনান নীলদলের আহ্বায়ক অধ্যাপক আমজাদ আলী। তাদের দাবিগুলো হলো : ১. কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ক্যাম্পাসে সংঘটিত সকল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের অবিলম্বে শাস্তির ব্যবস্থা করা ২. আবাসিক হলগুলোতে বৈধ এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়ন করা ৩. আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের জীবনমানের উন্নয়ন, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং যেকোনো ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন রোধে নীতিমালা প্রণয়ন করা, ৪. গ্রন্থাগারগুলোতে শুধু বৈধ শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিশ্চিতকরণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ৫. বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত