অলিম্পিক স্বর্নপদক ধরা দিলো জকোভিচকে

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৪, ১০:৫৬ পিএম

অবশেষে অলিম্পিক স্বর্ণপদক জিতলেন নোভাক জকোভিচ। আজ প্যারিসে পুরুষদের এককের ফাইনালে কার্লোস আলকারাজকে ৭-৬, ৭-৬ গেমে হারিয়ে আরাধ্য সোনার পদকটি জিতেছেন এই সার্বিয়ান।

টেনিসের ইতিহাসে ওপেন যুগে সাফল্যের বিচারে সফলতম খেলোয়াড় জোকোভিচ। তার গ্র্যান্ড স্ল্যামের সং্খ্যা ২৪টি। টেনিসে এমন কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম নেই, যা তিনি একাধিক বার জেতেননি। গোটা বিশ্বে কার্যত সব প্রতিযোগিতায় জিতেছেন। অধরা থেকে গিয়েছিল একটা জিনিসই। আর সেটা অলিম্পিক সোনা। ৩৭ বছরের জোকোভিচ জানতেন, তার কাছে আর সুযোগ নেই। তাই রোঁলা গারোর লাল দুর্গে নিজের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। 

রবিবার অবশেষে স্বপ্ন সফল তার। টেনিস বিশেষজ্ঞেরা এবার যদি তাকে সর্বকালের সেরা তকমা দেন, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

কাঁদছিলেন জকোভিচ

সোনা জয়ের কাজটা সহজ ছিল না। দ্বিতীয় রাউন্ডেই সামনে পেয়েছিলেন পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবদন্তি রাফায়েল নাদালকে। তবে এই নাদাল অতীতের নাদাল ছিলেন না। জোকোভিচ সুযোগ কাজে লাগাতে ছাড়েননি। লাল দুর্গের রাজাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে ফাইনালে এসে পান আরেক বাধা৷ তিনি কার্লোস আলকারাজ। 

উইম্বলডনের ফাইনালে স্ট্রেট সেটে হারের পর এক মাসও কাটেনি। জোকোভিচের হৃদয়ে ক্ষত যে দগদগে ছিল, তা এ দিন গোটা ম্যাচে তার খেলা দেখেই বোঝা গিয়েছে। হাঁটুর চোটে কাবু হলেও কোনো ম্যাচে ১০০ শতাংশ দিতে ছাড়েননি। সেই চেষ্টা কাজে লেগেছে। অবশেষে পূরণ হয়েছে ‘গোল্ডেন স্ল্যাম’-এর স্বপ্নও।

অলিম্পিকে সোনা জয়ের খিদে কতটা ছিল, তা ম্যাচের পর বোঝা গিয়েছে। আলকারাজের শট বাইরে যেতেই র‌্যাকেট ফেলে গ্যালারির দিকে তাকালেন। সঙ্গে মুখে একটানা চিৎকার। 

কিন্তু অলিম্পিকে সোনা জেতার পরেও আগ্রাসন কতক্ষণই বা ধরে রাখা যায়! জোকোভিচও পারলেন না। সঙ্গে সঙ্গে চোখ দিয়ে বেরিয়ে এল জল। মাটিতে হাঁটু মুড়ে বসে কাঁদতে শুরু করলেন বাচ্চাদের মতো। হাতের বুড়ো আঙুল তখন থরথর করে কাঁপছে। বোঝাই যাচ্ছিল ভেতর থেকে কতটা উত্তেজিত। একটু থেমে উঠে দাঁড়ালেন। কোনো রকমে আম্পায়ারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে, বিপক্ষ আলকারাজকে আলিঙ্গন করে ছুটে গেলেন গ্যালারির একটি নির্দিষ্ট কোণে। ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে আবার শুরু কান্না।

অলিম্পিকে সোনা জয়ের পর ইউরোস্পোর্টসের সঙ্গে কথা বলেন নোভাক জোকোভিচ, 'আমরা দুই সেটের জন্য প্রায় তিন ঘণ্টা খেলেছি। অবিশ্বাস্য লড়াই, অবিশ্বাস্য। সত্যি বলতে, শেষ শটটা যখন ওর পাশ দিয়ে গেল, তখনই আমার মনে হচ্ছিল ম্যাচটা জিততে পারব। আমি বিশ্বাস করেছিলাম যে আমি পারব, কিন্তু আসলে এটি জিততে ... সে বারবার ফিরে আসে, আমাকে আমার সেরা টেনিস খেলতে বলে। আমার সুযোগ ছিল, তারও সুযোগ ছিল, টাইব্রেকে দুটো সেট শেষ করাটা বোধহয় ন্যায্য ছিল। যখন কথা হলো, আমরা দুজনেই কিছু বড় নাটক নিয়ে হাজির হলাম।'

তিনি যোগ করেন, 'আমি এখনও ঘোরের মধ্যে আছি। ৩৭ বছর বয়সে অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের জন্য আমি আমার হৃদয়, আমার আত্মা, আমার শরীর, আমার পরিবার, আমার সবকিছু বাজি রেখেছিলাম। অবশেষে আমি তা করতে পেরেছি।'

কোর্টে গোটা দৃশ্যটাই প্রত্যক্ষ করছিলেন আলকারাজ। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে সোনা জিতেছিলেন রাফায়েল নাদাল। সেটাও এই জোকোভিচকে হারিয়েই। গত টোকিও অলিম্পিকেও তিনটি গ্র‍্যান্ড স্ল্যাম জিতে গিয়েছিলেন। সবাই ধরে নিয়েছিলেন, সোনা জিতে ইতিহাস গড়বেন তিনি। 

কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে গিয়ে সেই স্বপ্ন ম্লান হয় তার। অবশেষে প্যারিস অলিম্পিকে এসে সেই অধরা স্বর্ণের দেখা পেলেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত