পঞ্চগড়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর জানা মাত্রই আহমদিয়া সম্প্রদায়ের (কাদিয়ানী) উপর হামলা করে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। সোমবার (৫ আগস্ট) বিকালে জেলা শহরের অদূরে আহম্মদনগর ও শালশিরি এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
বিক্ষুদ্ধ জনতা প্রায় অর্ধশত পরিবারের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পুড়ে যায় বাড়ির আসবাবপত্র সহ সব কিছুই। ওই এলাকার আকাশে আগুনের কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দীর্ঘ সময় কাজ করে গভীর রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ওই এলাকায় বিক্ষুদ্ধ ও উত্তেজিত জনতা গণমাধ্যেম কর্মীদের প্রবেশ ও মুঠোফোনে কোন ছবি এমনকি ভিডিও করতে দেয়নি।
আহমদিয়া সম্প্রদায়ের আহত সুমন আহমদ বলেন, “আমরা কি দোষ করেছি। বারবার আমাদের উপর হামলা করা হচ্ছে। আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুর্বৃত্তরা যাকে যখন পেয়েছে আঘাত করেছে।”
ওই এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ সোলাইমান বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের পঞ্চাশের বেশি বাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এখনো অনেক বাড়িতে আগুন জ্বলছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।”
পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তুষার কান্তি রায় বলেন, “অসংখ্য বাড়িতে আগুন জ্বলছে। আমাদের ইউনিট গভীর রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”
পঞ্চগড় পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা বলেন, “আহম্মদনগরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিজিবি ও সেনাবাহিনী কাজ করছে। এখনো পরিস্থিতি শান্ত নয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। পঞ্চগড়ে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের মসজিদ ও বাড়িঘরে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
সোমবার (৫ আগস্ট) সরকার পতনের সুযোগ গ্রহণ করে একটি সা¤প্রদায়িক অপশক্তি বিকাল ৪টার দিকে পঞ্চগড়ের আহমদনগরের আহমদীয়া মসজিদ ও জলসাগাহ সহ প্রায় ৭০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট করে। এতে ১৬জন আহমদী সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের রংপুর বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দিল্লিতে গোপন আশ্রয়ে হাসিনা, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে সময় দিচ্ছে ভারত
বাংলাদেশের জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের
দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছেন ড. ইউনূস