”আন্দোলন শেষে বাজার নিয়ে আসবো নয়তো জীবন দিয়ে দিব।” পরিবারকে এমনটি বলে বের হয়েছিলেন সাব্বির ইসলাম। পরিবারকে দেয়া কথা তিনি রেখেছেন। আন্দোলন শেষে ঠিকই বাড়ি ফিরলেন কিন্তু লাশ হয়ে। সোমবার (৫ আগস্ট) সকালে সাভারের বাইপেল বকাবারি ডায়মন্ড ফ্যাক্টরির সামনে গুলিবিদ্ধ হয় মারা যান সাব্বির।
নিহত সাব্বিরে স্ত্রী ফরিদা বেগম জানান, সাভারে একটি সরিষা তেলের কারখানায় কাজ করতেন সাব্বির। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কারণে বন্ধ ছিল কর্মস্থল, ঘরেও ছিল না খাবার। হাতে ছিল না নগদ টাকা। বাকিতে বাজার করার দোকানটাও ছিল বন্ধ। দু'দিন উপুশ ছিলেন পরিবারের ৫ সদস্য। সবার ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আন্দোলনে যোগ দেন সাব্বির। স্ত্রী ফরিদা বেগমকে বলে যান হয় আন্দোলন শেষ হলে বাজার নিয়ে আসবো নয়তো জীবন দিয়ে দিবো।
ফরিদা বেগম বলেন, “ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলন দাবি পূরণ হলো, দোকান পাঠও খুললো। কিন্তু বাজার সদাই করা ও পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার আগেই ঘাতক বুলেট কেড়ে নিলো আমার স্বামীর প্রাণ। এখন আমার প্রতিবন্ধী ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে কিভাবে সংসার চালাবো?”
স্থানীয়রা জানান, ৮-১০ বছর আগে জীবিকা নির্বাহ করতে চার ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। সাভারে একটি সরিষা তেলের কারখানায় কাজ নেন। জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনে শুরু হলে তার পরিবারের অভাব অনটনে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে। মাস শেষে বেতন পাওয়ার পর দোকান থেকে বাকি নেওয়া টাকা পরিশোধ করেন। এরপর তার কাছে নগদ টাকা বলতে আর কিছুই নেই। এদিকে ছাত্রদের অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের বাজার সদাই আর তিনি করতে পারেননি। সোমবার আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলনে গিয়েই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সাথে আন্দোলনে যোগ দেওয়া সহকর্মী আল আমিন তার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারকে খবর দেন।
স্ত্রী ফরিদা বেগম চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকালে মরদহ নিয়ে বাড়িতে আসেন। আটপাড়া উপজেলা খেলার মাঠে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১ টায় জানাজা শেষে বারোটার দিকে সাব্বিরের শ্বশুরবাড়ি বানিয়াজান লাশ দাফন করা হয়।
