ব্রিটেন জুড়ে চলা চলমান দাঙ্গার মূল টার্গেট অভিবাসী মুসলমানরা। লন্ডন শহর অভিবাসীবহুল হওয়ায় লন্ডনে তুলনামুলক পরিস্থিতি কিছুটা ভাল থাকলেও যেসব শহর ও এলাকায় অভিবাসীর সংখ্যা একেবারেই কম, সেখানে অভিবাসীরা নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশীদের বাড়ী ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হবার ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাজ্যে লন্ডন-সহ বিভিন্ন শহরে অভিবাসীদের পক্ষে ও অতি ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে এখন সন্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বাংলাদেশী সহ লাখো ব্রিটিশ। শ্বেতাঙ্গরাও শরীক হচ্ছেন সেই প্রতিবাদে। যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আরো মিছিলের ডাক দিয়েছে অতি ডানপন্থিরা। তার প্রতিবাদে গত দু’দিনে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। তারা বর্ণবাদ-বিরোধী স্লোগান দেন।
ব্রিটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটি এ পরিস্থিতিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কমিউনিটির মসজিদগুলোতে একের পর এক হামলার হুমকি আসছে। হিজাবি বাংলাদেশী নারীরা কাজে বা জরুরী প্রয়োজনে গাড়ী ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। বাচ্চাদের হলিডের সময় চললেও হলিডে উদযাপন করতে পারছে না ব্রিটেনের লাখ লাখ মুসলমান পরিবার।
অনেক দিন ধরে ব্রিটেনের বিভিন্ন স্থানে চলা দাঙ্গায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ব্রিটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটি। ব্রিটেনে যখনই বামপন্থী লেবার সরকার ক্ষমতায় আসে তখনই একটি পক্ষ উগ্র ডানপন্থীদের উস্কে দেয়। এই দেশজুড়ে দাঙ্গার পেছনে রয়েছে প্রবল উগ্র ডানপন্থী,অভিবাসী বিরোধী বর্ণবাদী ,এমন বাস্তবতা এখন স্পষ্ট। ইডিএল ও টমি রবিনসনের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে।
ব্রিটেনে সত্তরের দশক থেকে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশী কমিউনিটি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজন উদ্দীন জালাল। তিনি বলেন, “আমাদের প্রজন্ম এখন বৃদ্ধ। সত্তরের,আশির দশকে আমরা যারা লড়াই করেছি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তারা অনেকেই মারা গেছেন। অনেকে অসুস্থ। বর্নবাদীদের রুখতে কমিউনিটির তরুন প্রজন্ম, মসজিদগুলো সহ সবার সন্মিলিত উদ্যোগ জরুরী। আগামী সোমবার করনীয় নির্ধারণে তারা সভা ডেকেছেন বলে জানান রাজন উদ্দীন জালাল।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য ডাকসুর সাবেক সিনেট সদস্য, লন্ডন স্কুল অব কমার্স অ্যান্ড আইটির সিইও নসরুল্লাহ খান বলেন, “এ দেশটা সবার। অভিবাসীদের নিয়ে খেলা চলছে। বর্ণবাদীরা এর নেপথ্যে। এখানে দেশের স্বার্থে ব্রিটেনের দল মত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত।
ব্রিটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রবীণ নেতা মোঃ লোকমান উদ্দীন বলেন “বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা তাদের কাজ নিয়ে যাচ্ছে,এমন অভিযোগ বর্নবাদীদের। অথচ এদেশে শ্বেতাঙ্গরা পরিবারে পরিবারে তিন চার প্রজন্ম ধরে কোন কাজে যায় নি,সম্পুর্নভাবে সরকারী বেনিফিট নির্ভর জীবন যাপন করেছে এটা প্রমানিত বাস্তবতা।”
১৯৪৭ সালের পরে এদেশে মানুষ কমে যাওয়ায় কল কারখানা চালু রাখার স্বার্থে অর্থনীতির উন্নতির জন্য ব্রিটেনে সরকার বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইমিগ্রেন্টদের বিভিন্ন ভিসা দিয়ে নিয়ে আসে।
শিল্পী অভিনেতা ও বর্নবাদ বিরোধী আন্দোলনে লন্ডনে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দেয়া স্বাধীন খছরু বলেন,ব্রিটেনে এখন বাংলাদেশীদের চতুর্থ প্রজন্ম চলছে। এখন এসে এই পরিস্থিতি দেখতে হবে ভাবিনি।
ব্রিটেনে বর্নবাদ বিরোধী আন্দোলনে অগ্রনী বাংলাদেশী কমিউনিটি। বিলেতের লন্ডন শহরের এডলার স্ট্রীট, হোয়াইট চার্চ লেন এবং হোয়াইট চ্যাপেল হাই স্ট্রীটে অবস্থিত একটি ছোট পার্ক, যেটির আগের নাম ছিল সেন্ট মেরিস পার্ক। পার্কটির ভিতরে ঢুকতেই চোখে পরবে ইংরেজিতে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘আলতাব আলী পার্ক’। আলতাব আলী লন্ডনের বাঙালি অভিবাসী ছিলেন। তিনি কারখানা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত শতকের সত্তরের দশকে ব্রিটেনে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন চলছিল। ১৯৭৮ সালের ৪ মে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্ব লন্ডনের এডলার স্ট্রিটে অজ্ঞাত কয়েকজন বর্ণবাদীর হাতে নির্মম ভাবে খুন হন তিনি। এ আন্দোলনে দু’জন বাংলাদেশী খুন হন।
বর্ণবাদী হামলায় আলতাব আলীর মৃত্যুতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছিল হাজারো মানুষ। বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। মানুষ রাজপথে নেমে আসে। আলতাব আলীর মৃত্যু এই আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করে।
ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে আলতাব আলীর নাম। এজন্যই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৯৮ সালে পূর্ব লন্ডনের এডলার স্ট্রিটে অবস্থিত সেন্ট মেরিস পার্ককে আলতাব আলী পার্ক নামকরণ করা হয়। লন্ডনে আলতাব আলীর নামে পার্ক বিলেতের মাটিতে বাংলাদেশীদের বর্নবাদী শক্তির বিরোধী লড়াই করে প্রতিষ্ঠিত হতে প্রেরনার মিনার হিসেবে প্রতিষ্টিত।১৯৯৯ সালে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের দক্ষিণ অংশে নির্মাণ করা হয় এই শহীদ মিনার; যা দেশের বাইরে বানানো প্রথম শহীদ মিনার।
সবার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট দিচ্ছে গ্রামীণফোন
বিপুল টাকা-ডলার-স্বর্ণালংকারসহ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আটক
মিছিলে গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী মিরাজের মৃত্যু
২৪ ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬
বাড়ছে চার নদীর পানি, বন্যার আশঙ্কা
১৫ বছরেও উন্নতি হয়নি ক্রিকেটের