সম্প্রীতি ও মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শন রক্ষার আহ্বান

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৪, ০৩:২০ এএম

ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব কথা জানায় টিআইবি।

টিআইবি মনে করে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তাসহ একটি সুশাসিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে রাষ্ট্রকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ঢেলে সাজাতে সুনির্দিষ্ট কৌশলনির্ভর পথ রেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। এ ছাড়া সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও নিদর্শন রক্ষায় অতন্দ্র-প্রহরীর ভূমিকা পালনের জন্য সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি।

এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, ‘বৈষম্যমুক্ত ও মানবাধিকারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎকারী, জবাবদিহিহীন ও ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ অপশক্তিকে অকুতোভয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ নজিরবিহীন আত্মত্যাগের বিনিময়ে পরাভূত করেছে। ছাত্র-জনতার অজেয় শক্তির অভূতপূর্ব এই অর্জনে সবাইকে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সকৃতজ্ঞ অভিনন্দন জানায় টিআইবি। এর মাধ্যমে স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পর নতুন করে স্বাধীনতার চেতনার বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে নতুন সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলছেন, ‘জরুরি বিবেচনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নের পাশাপাশি একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী তৈরিতে এর ব্যবস্থাপনা ও কর্মকাঠামো পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ এখনই শুরু করতে হবে। পুলিশের মতো একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী কীভাবে এমন জনরোষের শিকার হলো, এর অন্তর্নিহিত কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি বাহিনীটির কাক্সিক্ষত পেশাগত উৎকর্ষ এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। পরাজিত সরকার ক্ষমতার স্বার্থে পুলিশ বাহিনীসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে অপব্যবহার করেছে। তাই বলে নির্বিচারে পুলিশ তথা কোনো সরকারি কর্মচারীকে হত্যা বা তাদের প্রতি কোনো ধরনের সহিংস আচরণ করা গর্হিত অপরাধ, অবিলম্বে এসব বন্ধ করতে হবে।’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অনেক জায়গায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ রাত জেগে পাহারা দেওয়া সত্ত্বেও সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও মন্দিরে এখনো হামলার ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে জাতীয় আশা-আকাক্সক্ষা ও অনুপ্রেরণার উৎস মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত অনেক নিদর্শন ও স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ‘মুক্তিযুদ্ধের সরকার’ নামধারী স্বৈরতন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অবমাননা করেছে, তার বিচার হতে হবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায়।”

টিআইবি বলছে, চরম সংকট ও অভূতপূর্ব সম্ভাবনাময় মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে।

তাদের ওপর এ দেশের আপামর জনগণের সীমাহীন প্রত্যাশা। ছাত্র-জনতার অজেয় শক্তির হাতে পরাজিত দীর্ঘকাল লালিত দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির পরিণতি থেকে সঠিক শিক্ষা নিয়ে বৈষম্যমুক্ত, সুশাসিত, দুর্নীতিমুক্ত, বাক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মানবাধিকারভিত্তিক, জনকল্যাণমূলক, অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে টিআইবি তার সক্ষমতা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত