গুজব ছড়িয়ে সীমান্তে ‘অচেনা’ লোকজন জমায়েত

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৪, ০৩:২১ এএম

গুজব ছড়িয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে জড়ো করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে উত্তর গোতামারী সীমান্তে হাজার-হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দেখা যায়। স্থানীয়রা বলছেন, যারা জড়ো হচ্ছেন তারা অনেকেই বহিরাগত। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা লিয়াকত হোসেন বাচ্চু এসব লোকজন জড়ো করছেন।

বলা হচ্ছ, ‘ভারতীয় নেতারা সীমান্তে কাটাতাঁরের বেড়ার কাছে আসবেন, বাংলাদেশে নির্যাতিত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন।’ তবে ঘটনাস্থলে কাঁটাতারের অন্যপ্রান্তে ভারতীয় বিএসএফ ছাড়া সেখানে কেউ ছিল না।

এদিকে খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ ও পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসেন। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোনাব্বেরুল ইসলাম মোনা বলেন, ‘সকালে গিয়ে দেখি বহিরাগত কিছু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দলে দলে জড়ো হচ্ছে। তারা কী কারণে জড়ো হচ্ছে তা কিছুই জানি না। তারাও কিছু বলছে না। আমি তাদের চলে যেতে বললে তারা আমার ওপর চড়াও হচ্ছে।’

গোতামারী গ্রামের এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সনজিত ও গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠে দেখি দলে দলে লোকজন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার দিকে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, ভারতীয় নেতারা কাঁটাতারের বেড়ার কাছে এসেছেন। তারা বাংলাদেশি নির্যাতিত হিন্দুদের সঙ্গে কথা বলবেন। সে কারণে ওই লোকজন এসেছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি পুরোটাই গুজব।’

এলাকাবাসী জানায়, ওই এলাকায় হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চুর শ^শুরবাড়ি। সরকার পতনের দিন থেকে তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এমন খবর ভারতীয় মিডিয়ার নজরে নিয়ে আসার কৌশল হিসেবে তিনি গুজব ছড়িয়ে সীমান্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে জড়ো করেন। ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর হামলা হচ্ছে এমন দাবি তুলে গত বৃহস্পতিবার সকালে তার লোকজন দিয়ে মানববন্ধনেরও চেষ্টা করেন।

বিষয়টি নিয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, ‘আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নির্দিষ্ট করে তাদের অভিযোগ বলতে পারছে না। আবার বলছে তারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সব মিলে আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত