রাজশাহীর বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধি পলাতক

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৪, ০২:৫৩ এএম

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই রাজশাহী জেলার অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি চলে গেছেন আত্মগোপনে। জেলার ৯০ ভাগেরও বেশি জনপ্রতিনিধি ফেরেননি কর্মস্থলে। ফলে এখন ব্যাহত হচ্ছে জেলার নাগরিক সেবা কার্যক্রম। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, নিরাপত্তা কার্যক্রম যেহেতু শুরু হয়েছে, দ্রুতই জনপ্রতিনিধিরা কর্মস্থলে ফিরে আসবেন। যদি তারা না আসেন, তবে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজশাহী নগর ভবন পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। লুট করে নিয়ে যায় সিটি ভবনের প্রায় সবকিছুই। এমন পরিস্থিতিতে নগর ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসে কাজ করার মতো অবস্থাও নেই। যদিও লুটপাট হওয়া কম্পিউটার, চেয়ার, টেবিলসহ কিছু জিনিসপত্র দুর্বৃত্তরা নগর ভবনে ফেরত দিয়েছে। তবে, এখনো সেবা দেওয়ার মতো পরিবেশ সেখানে তৈরি হয়নি।

একই সময়ে সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের অনেকগুলোই ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন এলাকায় জন্মসনদ, নাগরিক সনদসহ নগর ভবনকেন্দ্রিক সেবা কার্যক্রম এখন বন্ধ। সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ বেশিরভাগ কাউন্সিলরই এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন। একই অবস্থা রাজশাহীর গোদাগাড়ী, তানোর, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, পবা, মোহনপুর, বাঘা, চারঘাট ও বাগমারা উপজেলা এবং পৌরসভার। এসব উপজেলার চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বেশিরভাগই আত্মগোপনে আছেন। ফলে এসব কার্যালয়ের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। জেলার বেশিরভাগ উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ কারণে সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গে তারা গা-ঢাকা দেন। ফলে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সংশ্লিষ্টর এলাকার মানুষ।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ গতকাল বলেন, ‘আজকেই প্রথম অফিস শুরু হলো। আমরা খবর নিচ্ছি। যদি এ রকম হয়, তারা তো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে, তাদের বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে আমরা সেখানে লেখব। আমরা আশা করি, থানাগুলো পুনর্গঠন হচ্ছে, যারা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন, তারাও হয়তো ফিরে আসবেন। কোনো জনসেবা যদি বিঘ্নিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আমরা অবহিত করব।’ তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি ছুটি নেননি। আজকে অফিস শুরু হলো। যদি তারা অফিসে না আসেন, তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘আমরা জানি জনপ্রতিনিধিদের একটি বড় অংশ এখনো অফিসে আসেননি। জনপ্রতিনিধিরা না থাকলেও এসব কার্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আছেন। তারাও ফাইল নিষ্পত্তি করতে পারবেন।’ তিনি জানান, এই মুহূর্তে ৯০ শতাংশেরও বেশি জনপ্রতিনিধি অনুপস্থিত আছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত