আ.লীগকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা 

নতুন মুখ নিয়ে দল গোছান

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৩০ এএম

দয়া করে আপনারা দেশকে অরাজকতার মধ্যে ঠেলবেন না। নতুন মুখ নিয়ে আপনারা পার্টি গোছান। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আপনাদের সাহায্য করব। গতকাল সোমবার সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তা ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত আনসার সদস্যদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দেখতে যান তিনি। ওই দুই স্থানে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘লোক জড়ো করুক, আর যা-ই করুক, আমি আপনাদের একটা অনুরোধ করি, এমন কিছু করবেন না যে আপনাদের (আওয়ামী লীগ) জীবন বিপন্ন হয়। এ দেশের পাবলিক এখনো আপনাদের গ্রহণ করতে আসেনি। আমি বরং মনে করি, আপনারা আপনাদের পার্টি রি-অর্গানাইজ (পুনর্গঠন) করুন।’

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অনেক অবদান আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। দলকে পুনর্গঠন করুন, রাজনৈতিক দলের মতো যেভাবে থাকে, নির্বাচন এলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, জনগণ ভোট দিলে ভোটে যাবেন। আপনারা (আওয়ামী লীগ) এই দেশকে আরেকজনের হাতে তুলে দেবেন? তাহলে আমরা যে মুক্তিযুদ্ধ করলাম, ৩০ লাখ লোক মারা গেল, সেই ৩০ লাখ লোকের ওপর দাঁড়িয়ে দেশটা আপনি আরেকজনের হাতে তুলে দেবেন? এ দেশের লোক এত তাড়াতাড়ি ভোলেনি। কারণ, যাকে ধরছিলেন নেতা, সেই নেতারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যাকে ধরছে, সেই নেতাকে আমরা বাঁচাতে পারছি না। অনেক নেতাকে অনেকে বাঁচিয়েছেন, আমরা জানি না এ কথা।’

মারামারি করে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এখানে আরও কিছু লোকের মৃত্যু আমরা চাই না। ইতিমধ্যে ৫০০, হয়তো আরও বেশি মারা গেছেন উভয় পক্ষের। পুলিশের এই অবস্থা হয়েছে। আনসারের এই অবস্থা হয়েছে। আমরা যদি উসকানি দিতাম, আপনারা টিকতে পারতেন না। আমরা আর্মিকে মানা করেছি। কারণ, কাকে মারবেন আপনি? পুলিশকে দিয়ে কাকে মারিয়েছেন? পুলিশকে দিয়ে মারিয়েছেন আপনার সন্তানকে। একজন পুলিশের সদস্য কী বললেন যে, স্যার, কয়টা গুলি লাগে, তার ছেলে লাশ। এটা করবেন না। অনুরোধ করছি, প্ররোচনায় আসবেন না। ব্যক্তিগত স্বার্থে আপনারা এত বড় একটা দলকে নষ্ট করবেন না। এটা (আওয়ামী লীগ) আমাদের গর্ব। এটা নষ্ট করার কোনো অধিকার নেই।’ প্রতিবিপ্লবের জন্য হাজার হাজার মানুষের রক্তের প্রয়োজন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আর কেউ যদি মনে করেন যে আবার একটা কাউন্টার রেভল্যুশন করে আসবেন, কাউন্টার রেভল্যুশন করতে হলে হাজার হাজার লোকের রক্তের প্রয়োজন। যদি আপনারা সেই দায়িত্ব নিতে চান, তাহলে আমার কিছু করার নেই।’ একপর্যায়ে ১৫ আগস্টের ছুটি থাকবে কি না জানতে চাইলে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এটার বিষয়ে আমি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারব না। এটা ক্যাবিনেটের কাজ, সেখানে আলোচনা করব।’

সাত দিনের মধ্যে অস্ত্র জমা দিতে হবে : বেসামরিক মানুষের হাতে নিষিদ্ধ ৭.৬২ এমএম রাইফেল পাওয়া গেছে উল্লেখ করেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘এটা বেসামরিক মানুষের হাতে যাওয়ার কথা নয়। সেটার বৈধতা পুলিশ ও র‌্যাবকে দেওয়া হয়েছিল। সেই অস্ত্র কীভাবে সাধারণ মানুষের হাতে গেল? যাদের হাতে অবৈধ অস্ত্র আছে, তা তারা সাত দিনের মধ্যে থানায় জমা দেবেন। যদি জমা না দেন, তাহলে দুটি চার্জ লাগবে। একটা হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র, আরেকটা হচ্ছে সরকারি নিষিদ্ধ অস্ত্র আপনাদের হাতে। সেটার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতেও যাওয়া যেতে পারে যে এটা কোথা থেকে পেয়েছেন। এসব রাইফেল ফেরত দিতে হবে সাত দিনের মধ্যে। তা না হলে অস্ত্র হাতে কাউকে পেলে তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি গতকাল একটা কথা বলেছি। সেজন্য দুঃখিত। রাগের মাথায় বলেছি যে আবার চাটুকারিতা করলে বন্ধ করে দেব। এটা আমার কাজ নয়।’ সব পুলিশ সদস্য খারাপ নন বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের উপলব্ধি হয়েছে। তারা নিজেরাই এখন আগের পোশাক পরে আসতে চান না। অপরাধগুলো তারা করেননি, তাদের দিয়ে করানো হয়েছে।’

আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়া শেখ হাসিনার উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি আসবেন, আপনার দেশ। আপনি আসেন না কেন? নাগরিকত্ব তো যায়নি। ২১ বছর প্রধানমন্ত্রিত্ব করেছেন। আপনি স্বেচ্ছায় চলে গেছেন, কেউ তো যেতে বলেনি। স্বেচ্ছায় আসেন, ভালো থাকবেন, আবার আসবেন। আমরা সবাই আপনাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু গ-গোল পাকিয়ে কোনো লাভ হবে না। বরং লোকজন আবার ক্ষেপে উঠবে।’

এদিকে দুর্গাপূজার বিষয়ে জানতে চাইলে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘তিন দিন সরকারি ছুটির বিষয়ে সুপারিশ করা হবে। এ বিষয়ে সচিবকে বলেছি। ক্যাবিনেটে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’

চাকরি খাওয়া মানে পুরো ফ্যামিলি নষ্ট করা : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, পুলিশ ইতিমধ্যে থানায় চলে গেছে, বাকিরা শিগগিরই যোগদান করবে। গতকাল রাতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি পুলিশদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বলেছিলাম আপনাদের ফাইলগুলো দেন, আমি দেখি। ইনশাআল্লাহ কোনো অন্যায় হবে না। কারণ, একজন লোকের চাকরি খাওয়া মানে তার পুরো ফ্যামিলি নষ্ট হওয়া। এখানে একটি মানবতার বিষয় আছে। আপনারা দেখেছেন পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে তারা আমাকে জড়িয়ে ধরেছে, তারা বলেছে পুলিশের এই ইউনিফর্ম পরবে না। আমি তাদের বলেছি এটা তো পুলিশের ইউনিফর্ম, রাতারাতি তো চেঞ্জ করে ফেলা সম্ভব নয়। চেঞ্জ করতে হলে এখানে সময় লাগবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত