রাশিয়ার কৌশল নাকি অপারগতা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৪, ০১:২৩ এএম

রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলে আচমকা ইউক্রেনের সেনা ঢুকে পড়ার পর থেকে রুশ বাহিনীর সঙ্গে তাদের লড়াই এক সপ্তাহ পেরিয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এই সেনাদের রাশিয়ার ভূখণ্ড থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে শাসালেও এখন পর্যন্ত তা করতে পারেনি। আর রাশিয়া যে কেবল ইউক্রেনের সেনাদের তাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে তাই নয়, বরং তারা রুশ ভূখ-ের আরও ভেতরে শত্রুসেনাদের অগ্রযাত্রা এমনকি ঠেকাতেও পারছে না বলেই মনে হচ্ছে। এটা রাশিয়ার অপারগতা নাকি কৌশল সে বিষয়টিও পরিষ্কার নয়।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম কিয়েভের সেনারা শত্রুভূমির অনেকখানি ভেতরে ঢুকতে সক্ষম হয়েছে। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের সেনারা গত ৬ আগস্ট হঠাৎ করেই ঢুকে পড়ে। এরপর সাত দিনেই রাশিয়ার ভূখ-ের ১ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার সেনারা এখনো রাশিয়ার ভূখণ্ডের আরও ভেতরে অগ্রসর হয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় সেনারা অগ্রসর হয়েছে এবং লড়াইয়ের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তাদের কব্জায় এসেছে ১০০ জনেরও বেশি রুশ সেনা।

বিবিসি জানায়, লড়াইয়ের মুখে কুরস্কের পাশেই আরেকটি রুশ অঞ্চল বেলগোরোদে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। সেখানে ড্রোন ও গোলা হামলায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর।

অবশ্য ইউক্রেনীয় সেনাদের ঠেকাতে কুরস্কে শক্তি বাড়াচ্ছে রাশিয়া। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শত্রুসেনাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর পর্যাপ্ত রিজার্ভ নেই।

গত কয়েক মাসে রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে। কয়েক কিলোমিটার ভূখণ্ড দখলের জন্য তারা ইউক্রেনের প্রতিরোধ লাইনে বহু সেনার বন্যা বইয়ে দিয়েছে। আর এতে লড়াইয়ে মাত্র দুই মাসেই রাশিয়া খুইয়েছে ৭০ হাজার সেনা। অর্থাৎ, দিনে গড়ে প্রায় এক হাজার সেনা মারা পড়েছে। এতেই রাশিয়ার রিজার্ভ সেনায় টান পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের ভালো গোয়েন্দা ব্যবস্থা আছে, তাতে শামিল রয়েছে তাদের পশ্চিমা মিত্রদেশগুলোও। তাদের কমান্ড কাঠামো রাশিয়ার থেকে ভালো।

রাশিয়ার লাইনে কিয়েভ সবচেয়ে দুর্বল জায়গায় হামলা করেছে এবং খুবই সতর্কভাবে পা ফেলা ইউক্রেনীয় সেনারা রাশিয়ার ভূখ-ের গভীরে ঢুকে পড়তে পেরেছে।

অন্যদিকে, গত বছর শক্তিশালী রুশ ভাড়াটে সেনা দল ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের ওয়াগনার বাহিনী বিদ্রোহ করায় রাশিয়ার অবস্থান অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। ওয়াগনারের সেই বিদ্রোহের পর থেকে এখন পর্যন্ত রুশ সামরিক বাহিনীকে শত্রুসেনাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে অপারগ বলেই মনে হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত