কুষ্টিয়ায় হানিফের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৪, ১১:৫৮ পিএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জনকে হত্যার অভিযোগ এনে পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহাবুব উল আলম হানিফকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর মডেল থানায় পৃথক এ দুটি মামলা করা হয়। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, সাংবাদিক নেতা, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপিসহ জেলার শীর্ষস্থানীয় অর্ধশতাধিক নেতাকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পৌর কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যানদের মতো জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন আসামির তালিকায়।

একটি মামলা করেন কুষ্টিয়ার সদর চরথানাপাড়ার বাসিন্দা ও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শিশু আব্দুল্লাহ’র (১৩) বাবা লুকমান হোসেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, অসুস্থ থাকায় আমার ছেলে আব্দুল্লাহ গত ৫ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালে খাবার নিয়ে যাচ্ছিলো। এসময় আসামিরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। তখন আমার ছেলে খাবার নিয়ে সংঘর্ষের সময় পালাতে গেলে হানিফের নির্দেশে আসামি আতা গুলি করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করে।

অপর হত্যা মামলাটি করেন কুষ্টিয়া কাটাইখানা মোড়ের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম রাহুল পারভেজ। তার মামলা সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনের সমন্বয়কারী রাইসুল ইসলাম বাবু (৩৪) ও আশরাফুলসহ বেশ কয়েকজন গত ৫ আগস্ট বকচত্ত্বর এলাকায় অবস্থান করে। এসময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া দেয়। আদ্ব-দীন হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে আসামিরা বাবুকে কুপিয়ে জখম করে। এসময় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানায় রাইসুল ইসলাম বাদী হয়ে করা এ মামলাতেও আওয়ামী লীগের ৩৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মাহফুজুল হক চৌধুরী জানান, কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এনে প্রায় ৭-৮টি এজাহার জমা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে মামলার বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া আসামিদের ধরতে অভিযানও শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত