রূপসী এলাকা থেকে ট্রেড লাইসেন্স করাতে তারাব পৌরসভায় এসেছিলেন সেলিম মিয়া। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিন দুর্বৃত্তদের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভা। এ কারণে পৌরসভার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ট্রেড লাইসেন্স না নিয়েই ফিরে যেতে হয় সেলিম মিয়াকে। শুধু সেলিম মিয়া নন, পৌরসভার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তার মতো ৩ লাখ বাসিন্দা ভোগান্তিতে আছে। কবে নাগাদ পৌরসভার কার্যক্রম চালু হবে তাও অনিশ্চিত।
সরেজমিনে জানা গেছে, তারাব পৌরসভাতেই উপজেলার ৭০ শতাংশ শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন দুর্বৃত্তরা পৌর কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা পৌরসভা ভবনের প্রতিটি কক্ষে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে নথিপত্র পুড়ে যায়। পৌরসভার বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়িয়ে ফেলা হয়। পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু সনদ, চারিত্রিক সনদ, বাড়ির ট্যাক্সসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ব্যবসায়ী আক্তার মিয়া বলেন, ‘আমার ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে পৌরসভায় আসলাম। কর্মকর্তারা বলল বর্তমানে পৌরসভার সব কাজ বন্ধ রয়েছে। কাজ কবে চালু করা হবে তা জানা নেই।’
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জেডএম আনোয়ার বলেন, ‘পুরো পৌরসভার ভবনে দুর্বৃত্তরা তান্ডব চালিয়েছে। একটা কলমও অবশিষ্ট রাখেনি। আমার দীর্ঘ চাকরি জীবনের সার্ভিস বইটিও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে তারা। আমি দুই বছর পর অবসরে যাব। এটি ছাড়া আমি পেনশনের টাকা পাব না।’
তারাব পৌরসভার সচিব তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভায় ১২ কোটি ২৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সবকিছু লুটপাট ও আগুনে পুড়ে যাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এগুলো ঠিক করতে অনেক সময় লাগবে।’
